বলিউডের ইতিহাসে যদি কারও নাম "চিরসবুজ" শব্দটির সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে থাকে, তবে তিনি নিঃসন্দেহে দেব আনন্দ।
পুরো নাম ধরম দেবদত্ত পিশোরিমাল আনন্দ, যিনি একাধারে অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং এক স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব।
১৯৪৬ সালে হাম এক হ্যায় সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। তবে প্রকৃত পরিচিতি আসে গুরু দত্তের নির্দেশিত জিদ্দি (১৯৪৮) ছবির মাধ্যমে।
১৯৪৯ সালে তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা নবকেতন ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকেই তৈরি হয় একের পর এক কালজয়ী সিনেমা।
জিদ্দি, বাজি, সানাম, ট্যাক্সি ড্রাইভার, মুনিমজী, সিআইডি, কালাপানি, লাভ ম্যারেজ, হাম দোনো, গাইড, জুয়েল থিফ, জনি মেরা নাম, গ্যাম্বলার, হীরা পান্না, দেশ পরদেশ, আওয়াল নাম্বারসহ বহু জনপ্রিয় সিনেমা তাঁকে বলিউডের এক অনন্য নক্ষত্রে পরিণত করে।
অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনার পাশাপাশি দেব আনন্দ রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন।
ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে জরুরি অবস্থা জারি হলে তিনি কংগ্রেসের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন। এর ফলস্বরূপ দূরদর্শন ও প্রসার ভারতী থেকে তাঁর চলচ্চিত্র ও গান নিষিদ্ধ করা হয়।
তখন দেব আনন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের আলাদা রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন — গণতন্ত্রে মানুষের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
চিরযৌবনা ভাবমূর্তি নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন।
২০১১ সালের ৩ ডিসেম্বর লন্ডনের এক হোটেলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি চিরবিদায় নেন।
দেব আনন্দ শুধু অভিনেতা নন, তিনি ছিলেন এক যুগের প্রতীক।
তাঁর হাসি, ভঙ্গি, সংলাপ— সবকিছু আজও অমলিন।
চিরসবুজ এই কিংবদন্তি চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা