নানি যখন ক্যারিয়ার নিয়ে সংগ্রাম করছিলেন, সেই সময়ও তার পাশে ছিলেন অঞ্জনা। স্মৃতিচারণ করে অঞ্জনা ইয়েলাভার্থী বলেন, “২০০৯ সালের কথা এখনো মনে আছে। আমরা কয়েকজন কলেজ ফাঁকি দিয়ে তোমার সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। গিয়ে জানতে পারলাম, মুক্তির দিন সকালেও সিনেমাটির কোনো শো নেই। তখন মনে হয়েছিল—নবাগত একজন অভিনেতার জন্য একটি সিনেমা সময়মতো মুক্তি পাওয়া কতটা কঠিন হতে পারে!”
নানি আজ তার ক্যারিয়ারের যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, তা দীর্ঘ পথচলার ফসল। তা স্মরণ করে অঞ্জনা ইয়েলাভার্থী বলেন, “১৭ বছর পর দেখছি, ‘প্যারাডাইস’ দেখতে মানুষ হলে যাচ্ছেন। কারণ তুমি সেই বিশ্বাস তৈরি করেছো। আর এই আস্থা একটি একটি সিনেমা উপহার দিয়ে তৈরি করেছো। এসব দেখে আমরা সবাই আবেগাপ্লুত ও কৃতজ্ঞতা বোধ করছি। এই ‘রোম’ নিশ্চয়ই এক দিনে তৈরি হয়নি, আর আমি তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।”
নানি তার প্রতিটি সিনেমাকে সন্তানসম মনে করেন। তা জানিয়ে অঞ্জনা ইয়েলাভার্থী বলেন, “আমি দেখেছি—তোমার প্রতিটি সিনেমাই যেন তোমার সন্তানসম। কোনোটি ধীরে ধীরে এগিয়েছে, কোনোটি দৌড়েছে, কোনোটি চলার পথে মাথায় আঘাতও পেয়েছে। তাতে কিছুই যায়-আসে না। কারণ এগুলো তোমারই সন্তান। ‘প্যারাডাইস’ শিশুর মতো ছোট ছোট পায়ে পা ফেলতে শুরু করেছে।”
পিরিয়ড অ্যাকশন ড্রামা ঘরানার ‘প্যারাডাইস’ নির্মাণ করেছেন শ্রীকান্ত ওডেলা। তেলেগু ভাষার এ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন—মোহন বাবু, সোনালি কুলকার্নি, রাঘব জুয়েল, ঈশ্বরী রাও প্রমুখ। সিনেমাটির আইটেম গানে পারফর্ম করেছেন কীর্তি সুরেশ।
পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করে ২০১২ সালে অঞ্জনাকে বউ করে ঘরে তুলেন নানি। বিয়ের পাঁচ বছর পর তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় একমাত্র সন্তান অর্জুন।
নানি নামে সবাই চিনলেও তার আসল নাম—ঘণ্টা নবীন বাবু। কৈশোরে স্বপ্ন দেখতেন অভিনেতা হওয়ার। যার কারণে ওই সময়ে প্রিয় তারকাদের সিনেমা দেখতে ছুটে যেতেন প্রেক্ষাগৃহে। স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে পরিশ্রমকে পুঁজি করে এই মাধ্যমে হাঁটতে শুরু করেন তিনি। সহকারী পরিচালক হিসেবে রঙিন দুনিয়া পথচলা শুরু হয় তার। এরপর নাম লেখান অভিনয়ে। রুপালি জগতে নানি নামে খ্যাতি কুড়ান ঘণ্টা নবীন বাবু।
২০০৮ সালে ‘অষ্ট চামা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন নানি। হলিউডের এই রিমেক সিনেমাটি ব্যবসায়ীকভাবে সফল হয়। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নানি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হলো—‘মজনু’, ‘নেনু লোকাল’, ‘নিনু কোরি’, ‘জার্সি’, ‘শ্যাম সিং রায়’ প্রভৃতি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা