সময়টা নব্বইয়ের দশক। তখন রাজবাড়ী সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। সেই সময় বড় বোনের বাড়িতে থাকার সুবাদে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল অনেক গুণী মানুষের সঙ্গে। তাদেরই একজন ছিলেন বিকাশ বোস। তিনি সে সময় কালুখালী কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। দীর্ঘদিন পর সেই পরিচয়ের সূত্রেই এবার এক অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানালেন চঞ্চল চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, তার বড় দুলাভাই পীযূষ কান্তি সাহা ছিলেন বেলগাছী আলিমুজ্জামান হাই স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক। তার সংস্পর্শে এসে বহু গুণী মানুষের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ হয়েছিল চঞ্চলের। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিকাশ বোস।
চঞ্চল লেখেন, বিকাশ বোস চমৎকার আবৃত্তি করতেন এবং বিভিন্ন আয়োজনে প্রায়ই তার বোনের বাড়িতে আসতেন। তাকে খুব স্নেহও করতেন বিকাশ বোস। ঢাকায় চলে আসার পরও অনেক দিন তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। পরে নানা বাস্তবতায় দীর্ঘদিন যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি।
সম্প্রতি বিকাশ বোসের মেয়ে চিকিৎসক লোপামুদ্রা বোসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ হয় চঞ্চলের। তিনি জানান, তার মা বর্তমানে কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং গুরুতর অসুস্থ। লোপামুদ্রার বরাত দিয়ে চঞ্চল জানান, তার মা প্রথমে মস্তিষ্কের জটিলতায় আক্রান্ত হন। পরে ফুসফুসে সংক্রমণ দেখা দিলে অবস্থার অবনতি হয় এবং তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করতে হয়। বর্তমানে তিনি যন্ত্রের সাহায্যে শ্বাস নিচ্ছেন।
এ অবস্থায় চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তীব্র অর্থসংকটে পড়েছেন লোপামুদ্রা। মাকে দেশে ফিরিয়ে আনা যেমন সম্ভব হচ্ছে না, তেমনি কলকাতায় চলমান চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি। তাই মায়ের চিকিৎসার জন্য সবার কাছে সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার আবেদন করেছেন লোপামুদ্রা।
চঞ্চল চৌধুরী নিজের পোস্টে লেখেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি যারা অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তুলতে লোপামুদ্রার আকুতিতে সাড়া দিতে চান, তাদেরও পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিনোদন প্রতিবেদক
মোহিত লাল সাহা