কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগে আয়োজিত মানববন্ধনকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলার আইনজীবীরা।
বুধবার (১ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জে আইনজীবীদের উদ্যোগে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বড়িবাড়ী ইউনিয়নে অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনের নিজ বাড়ির এলাকায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কয়েকজনের উদ্যোগে মানববন্ধন করা হয়। আইনজীবীদের দাবি, ওই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযোগকারী ব্যক্তিদের কয়েকজন অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৭ জুন এনসিপির প্যাডে একটি সমন্বয় কমিটি গঠনের কাগজে তাদের কয়েকজনের নাম থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা এবং এর আইনগত প্রাসঙ্গিকতা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ ছাড়া স্মারকলিপিতে ইটনা উপজেলায় কয়েকটি ড্রেজারের মাধ্যমে কথিত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগও আনা হয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার জেরে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
স্মারকলিপিতে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট রেহেনা সুলতানা কবিতা, অ্যাডভোকেট নাদিরা সুলতানা সোনা ও অ্যাডভোকেট শাহীন সুলতানা।
আইনজীবীরা একই সঙ্গে ইটনা উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে কথিত অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানান।
নোট: স্মারকলিপিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা উচিত।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া সোহাগ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
