গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শালমারা হল্ট স্টেশন এলাকায় অবৈধভাবে তৈরি একটি অননুমোদিত রেলক্রসিংয়ে ইটবোঝাই পাওয়ার টিলারের সঙ্গে আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাওয়ার টিলারটি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অল্পের জন্য ট্রেনের কয়েকশ’ যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। চালক সময়মতো লাফিয়ে পড়ে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সান্তাহার-লালমনিরহাট রেলপথের শালমারা হল্ট স্টেশনের কাছে বুড়িমারীগামী ৭১৩ আপ আন্তঃনগর করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সঙ্গে এ সংঘর্ষ ঘটে।
মহিমাগঞ্জ রেলস্টেশন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি সোনাতলা ও মহিমাগঞ্জ স্টেশনের মধ্যবর্তী শালমারা হল্ট স্টেশনে প্রবেশের সময় পশ্চিম দিক থেকে পূর্বদিকে যাওয়ার পথে একটি ইটবোঝাই পাওয়ার টিলার রেললাইনের ওপর উঠে পড়ে এবং আটকে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে চালক দ্রুত লাফিয়ে নামেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ট্রেনটি সজোরে পাওয়ার টিলারটিকে ধাক্কা দেয়।
সংঘর্ষে পাওয়ার টিলারের ইঞ্জিন, বডি ও বহন করা ইট চারদিকে ছিটকে পড়ে এবং যানটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তবে ট্রেনচালক দ্রুত ব্রেক কষে ট্রেনটি থামিয়ে দেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। সংঘর্ষের ফলে পাওয়ার টিলারের ইঞ্জিন ট্রলি থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় রেলপথ পরিষ্কার করা হলে প্রায় আধা ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে এবং মহিমাগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়।
এ বিষয়ে বোনারপাড়া জিআরপি থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল উদ্দীন বলেন, শালমারা রেলস্টেশন এলাকার একটি অরক্ষিত ও অননুমোদিত রেলক্রসিং দিয়ে ইটবোঝাই পাওয়ার ট্রলি পার হওয়ার সময় ট্রেনটি কাছাকাছি চলে আসে। সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় ট্রেনের গতি কমানো হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রেনটি ট্রলিটিকে ধাক্কা দেয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও জিআরপি পুলিশের সহায়তায় ট্রলিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
শালমারা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান তৌফিজুর রহমান তৌফিক ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, অননুমোদিত ও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের কারণে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে। দ্রুত এসব অবৈধ পারাপার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সুদীপ্ত শামীম/গাইবান্ধা
