রবিবার, আগস্ট ৩০, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সৌদির কাছে সামরিক সহায়তা চাইলো ইয়েমেন

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সৌদির কাছে সামরিক সহায়তা চাইলো ইয়েমেন

বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে সৌদির কাছে সামরিক সহায়তা চাইলো ইয়েমেন

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বৈধ সরকার দেশটিতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং শান্তি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের কাছে জরুরি ভিত্তিতে নতুন করে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। 

 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রেসিডেন্ট রাশেদ আল-আলিমি প্রকাশ্যে এই সহায়তার আহ্বান জানান। বর্তমানে ইয়েমেনের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-এর ক্রমবর্ধমান দখলদারিত্ব এবং বিদ্রোহী হুতিদের সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই এই অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সৌদি আরব ইতিমধ্যে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউতে এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে।

ইয়েমেনের এই রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট ডিসেম্বরের শুরু থেকে আরও ঘনীভূত হয় যখন এসটিসি সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের দখল নিতে শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ হারদামাউত ও আল-মাহরার অধিকাংশ এলাকা এসটিসির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

সৌদি আরব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে অবিলম্বে দখলকৃত এলাকাগুলো থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও তারা উল্টো নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে। প্রেসিডেন্ট রাশেদ আল-আলিমি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, এসটিসি যদি তাদের দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখে তবে দেশের ভেতরে চরম বিভক্তি দেখা দেবে এবং এই বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সহজেই এসব অঞ্চল নিজেদের কবজায় নিয়ে নিতে পারে।

এসটিসি মূলত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী যারা ইয়েমেনকে ভেঙে ১৯৯০ সালের আগের মতো পুনরায় দুই ভাগে বিভক্ত করতে চায়। তাদের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলকে নিয়ে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি বাহিনীর ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে, যা সৌদি আরবের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

রিয়াদ প্রশাসনের মতে, ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথাচাড়া দিলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ আরও জটিল রূপ নেবে এবং হুতিদের দমানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ এবং বিমান হামলা ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে টিকিয়ে রাখার শেষ ভরসা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক অংশ হুতি বিদ্রোহীদের দখলে থাকলেও বাকি অংশের শাসনভার নিয়ে পিএলসি এবং এসটিসির মধ্যে চলা এই অন্তর্দ্বন্দ্ব দেশটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি সৌদি আরব ও তার মিত্রদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন হারদামাউত এবং আল-মাহরার নিয়ন্ত্রণ সরকারি বাহিনীর হাতে ফিরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের এই পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং হুতিদের হাত থেকে নতুন নতুন অঞ্চলকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।