গাইবান্ধায় গাছ চাপা পড়ে ফিহামনি (১১) ও জান্নাতি আক্তার (২) নামের আপন দুই বোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়; ঘটনার পেছনে হত্যার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাতে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রঘুনাথপুর গ্রামের আব্বাসের মোড় এলাকায় মধু মিয়া ও মতিউর রহমানের বাড়িতে সকাল থেকেই গাছ কাটার কাজ চলছিল। বিকেলের দিকে পাশের বাড়ির ফরিদ মিয়ার ১১ বছর বয়সী মেয়ে ফিহামনি তার দুই বছর বয়সী বোন জান্নাতি আক্তারকে কোলে নিয়ে গাছ কাটা দেখতে যায়। এ সময় ‘চাগুয়ে’ নামের একটি বড় গাছ কাটার সময় সেটি উপড়ে গিয়ে দুই বোনের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত লোকজন এবং গাছের মালিক মধু মিয়া ও মতিউর রহমান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাড়াহুড়ো করে শিশু দুটির মরদেহের ওপর পাতা চাপা দিয়ে রেখে পালিয়ে যান। সন্ধ্যার পর নিখোঁজ দুই মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাবা ফরিদ মিয়া গাছের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করলেও সফল হননি।
পরে খবর পেয়ে গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ও সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কেটে নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই বোনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের বাবা ফরিদ মিয়া বলেন, ‘আমার দুই মেয়েকে যারা এভাবে মেরে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। যদি দুর্ঘটনাই হতো, তাহলে মরদেহ ঢেকে রেখে পালাবে কেন?’
মা লাইজু বেগম সন্তান হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘কোটে মোর সোনার ধন, কেটা মারি ফেলালো রে… মোর কলজে দুইটেক আনি দেও। ওরা আমার মাইয়া দুইটারে মাইরা পাতা দিয়ে ঢাকি রাখছে, ও আল্লা রে।’
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি তদন্ত শ্রী সুমঙ্গল কুমার দাশ বলেন, ‘গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এবং গাছের মালিক উভয়েরই গাফিলতি রয়েছে। এ ধরনের বড় গাছ কাটার সময় আশপাশের মানুষ ও বাড়িঘরকে অবশ্যই সতর্ক করতে হয়। সেটি করা হয়নি বলেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এখনো পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধা প্রতিনিধি