বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একটি অংশ সম্প্রতি নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ক্যাম্পে বসবাসরত কিছু রোহিঙ্গা মাছের ঘের দখলসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজেদের মধ্যে আরকান স্বাধীনতার অনুভূতি ছড়িয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, সীমান্ত পরিস্থিতি অবনতির সুযোগ নিয়ে অনেক রোহিঙ্গা আবারও বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে-যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা শতাধিক রোহিঙ্গার চেহারা ও অবস্থা বিশ্লেষণ করে স্থানীয়দের দাবি, এদের অনেকেই যোদ্ধার মতো নয়। তাদের মধ্যে রয়েছে বৃদ্ধ, নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু। কারও হাতেই অস্ত্র দেখা যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে-যদি তারা প্রকৃত অর্থে যুদ্ধে জড়িত থাকতো, তবে তারা কি এভাবে নিরস্ত্র অবস্থায় নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতো? অনেকের ধারণা, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে তারা আবারও বাংলাদেশি ক্যাম্পে ঢোকার পথ খুঁজছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ও সীমান্ত এলাকা ব্যবহৃত হওয়ায় স্থানীয় জনগণ সরাসরি সহিংসতার শিকার হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আরকান আর্মি সীমান্তবর্তী এলাকায় আকাশপথে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করছে এবং ভূমিতে মর্টারশেল ও গুলি নিক্ষেপ করছে। এর ফলে স্থানীয় বসতবাড়িতে বুলেট পড়ছে, মানুষ মাইন বিস্ফোরণের শিকার হচ্ছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
নাফ নদীতে মাছ শিকার কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। মাছের ঘের ও প্রকল্পগুলো মারাত্মকভাবে অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। সীমান্ত অস্থিরতার কারণে জীবিকা হারাচ্ছে হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে পণ্য পাচার বৃদ্ধি পাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে এবং ইয়াবাসহ মাদক কেনাবেচা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র মতে, সীমান্ত এলাকায় প্রায় ৬ শতাধিক জেলে বন্দি, শতাধিক মানুষ নিখোঁজ বা নিহত, এবং অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় পুঁতে রাখা মাইনের বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি জেলের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার খবর স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে-এই ক্ষয়ক্ষতির দায় কে নেবে?
স্থানীয়দের আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, কিছু রোহিঙ্গার সঙ্গে আরকান আর্মির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যেই বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত ত্রিমুখী এই সম্পর্ক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলেই স্থানীয় জনগণের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রতি আস্থাহীনতা দিন দিন বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত এখন আর সীমান্তের ওপারে সীমাবদ্ধ নেই। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে। স্থানীয়দের দাবি, এই সংকট মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
মো গিয়াসউদ্দিন
উখিয়া কক্সবাজার
