রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ঘরের লোকদের কারণে কোরিয়ার বিপক্ষে নামা হলো না মাঠে

ঘরের লোকদের কারণে কোরিয়ার বিপক্ষে নামা হলো না মাঠে

ঘরের লোকদের কারণে কোরিয়ার বিপক্ষে নামা হলো না মাঠে

অস্ট্রেলিয়ায় এশিয়ান কাপ ফুটবলে খেলতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলারের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমে বেরিয়েছিল, তিনি পরিকল্পনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার দিনে, দুপুরে সংবাদ সম্মেলনেও তিনি আফসোস করেছিলেন প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সুবিধা পাননি। সন্তোষজনক না। রাগ-ক্ষোভ অভিমানে বলেই ফেললেন বাফুফে ঐ লেভেলের ফুটবলটাই বুঝে না। 

 

সংবাদ সম্মেলনের খোঁজখবর নিয়ে পালটা প্রশ্ন করেছেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, 'পিটার কার কাছে, কবে, কোথায় প্ল্যান দিয়েছিলেন যে, সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। প্ল্যানটা কোথায় দেখাতে বলেন।' বাফুফে সভাপতির ধারণা, খেলতে নামার আগেই একটা নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে রাখতে চান পিটার।  

 

থাই বিমানে ওঠার আগে পিটারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল-সে কোচ হয়ে অস্ট্রেলিয়া যেতে চায় কি, চায় না। সংবাদ সম্মেলনে নিজের অসংগতির কথা উপলব্ধি করতে পেরেছেন পিটার। নিজের কাজে মনযোগ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নারী ফুটবলারদের অনুশীলন নিয়েও সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বাফুফে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেটি হয়নি। বাফুফে সভাপতি জানালেন, তিনি নিজে কোরিয়ার সঙ্গে ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। বাকি কাজটা এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল অন্যদের। কিন্তু সেটি ঠিকঠাক মতো ফলোআপ করতে না পারায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।  

 

তাবিথ বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ক্লোজড ডোর ম্যাচ। সবকিছু সেট করে দিয়ে আমি চলে এলাম অন্য কাজে। সেখান থেকে ফিরে আসার পর আমাকে জানানো হলো-দক্ষিণ কোরিয়া খেলবে না। সবকিছু নিশ্চিত করে রাখলাম। সেই খেলা হবে না। আমি তো অবাক। একদিন পর শুনি কোরিয়া উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ক্লোজড ডোর ম্যাচ খেলছে। আমাদের সঙ্গে খেলার কথা, সেই ম্যাচ উজবেকিস্তান খেলছে। আমি একটা কাজ গুছিয়ে আনলাম। সেটি যদি অন্যরা এগিয়ে নিতে না পারে তাহলে এই দায় কার। দলের সঙ্গে ফিজিও নেই। সেটিও আমার কাছে গোপন করা হয়েছে। 

 

তাবিথ জানালেন, একজন নারী ফিজিও দলের সঙ্গে যাবেন, মিটিং হয়ে গেছে, টিম হয়ে নাম চলে গেছে, রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেছে। ঐ নারী ডিসেম্বরে জানালেন, তিনি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সাত মাসের প্রেগনেন্সি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া সরকার তার দেশে ঢুকতে দেবে? তাকে বাদ দিয়ে আরেক জনকে আনা হলো। দল অস্ট্রেলিয়ায় যাবে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নাকি ফিজিওর এপেন্ডিসাইটের অপরাশেন হয়েছে। সে হাসপাতালে। একটা লোককেও সে বলে নাই তার অপারেশন হয়েছে। ১৯ তারিখে যখন ফেডারেশন জানতে পেরেছে তখন একটা লোকও আমাকে বলেনি। একটা টপ লেভেলে খেলতে যাচ্ছেন অথচ ফিজিও ছাড়া।'

সব দায় সভাপতির। তবে সভাপতিকে পেছন থেকে টেনে ধরার একটা চেষ্টা অনুভব করছেন তাবিথ। আগামীতে যে কাজটা করবেন সেটি সম্পন্ন না করা পর্যন্ত অন্য কারো ওপর নির্ভর করতে চান না। তাবিথ বলেন, 'অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার আগে ফিলিপাইনে গিয়ে ম্যাচ খেলে ওখান থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে নারী দল, প্ল্যান ঠিকঠাক। কিন্তু রাজি হলো না পিটার। বলল কষ্ট হয়ে যাবে। সেটিও বাদ। নভেম্বর ডিসেম্বরের ফিফা উইনডোতে শক্তিশালী কোনো দেশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ হয়নি। কেউ রাজি হচ্ছিল না। যেসব দেশ খেলতে চেয়েছিল তারা অতটা শক্তিশালীও না। আমাদের ফুটবলারদের শক্তির বিচারে দেখলাম খুব একটা লাভ হবে না। কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হতো। এখন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেটি হয়েছে সেটিও খারাপ না।

 

 

নারী লিগ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। যেভাবে এবার লিগ আয়োজন করা হয়েছে সেটা নিয়ে ক্ষোভ আছে বাফুফে সভাপতির। লিগে খেলে জাতীয় দলের ফুটবলারদের উপকার হয়েছে দাবি করেন তাবিথ। তবে তিনি নারী লিগটা অন্যভাবে সাজিয়েছিলেন। সেই পরিকল্পনাটা বাস্তবায়ন হয়নি ঘরের লোকদের কারণে। তাবিথ বলেন এবারের লিগে প্রত্যেক দলে ৪ জন করে নেপালের প্লেয়ার থাকার কথা। পুল সিস্টেমে এই লিগে পাকিস্তানের ৮ জন প্লেয়ার থাকার কথা, এই লিগে থাইল্যান্ডের ৬ জন ফুটবলার থাকার কথা-কোথায় গেল। 

তিনি বলেন, 'নেপালের প্লেয়ারদেরকে ওপেন করে দিয়েছিলাম। একটা ক্লাব একজন থাই প্লেয়ার নিতে পারবে। পাকিস্তানি প্লেয়ারের ব্যাপারেও পুল সিস্টেম ছিল, তবে যারা থাইল্যান্ডের প্লেয়ার নিতে না পারবে তারা পাকিস্তানি প্লেয়ার নেবে। আমি নিজে এসব ফুটবলারের অ্যারেঞ্জ করে দিয়েছি।

 

 

তাবিথের পালটা প্রশ্ন থাইল্যান্ড, পাকিস্তানি ফুটবলাররা কেন খেলতে পারলেন না। ওরা খেললে লিগের চেহারাও অন্যরকম হতে পারত। বাফুফের ভেতরের মানুষের উদাসীনতা সবচেয়ে বড় কারণ। শীর্ষ কর্তারাই পাকিস্তান এবং থাইল্যান্ডের ফুটবলারদের গুরুত্ব উপলব্দি করতে পারেননি। তাবিখের কষ্ট হচ্ছে বাফুফের কম্পিটিশন ম্যানেজারও (জাবের বিন আনসারী) বিষয়টি বুঝতে পারেননি কেন।

সবকিছুতে তাবিথকে অন্ধকারে রাখা হয়। নারী লিগ সকাল থেকে কমলাপুর স্টেডিয়ামে হয়েছে। পাঁচ ম্যাচ হয়েছে একদিনে। এটা ঢাকায় স্টেডিয়ামে কেন করা হয়নি সেটিও বাফুফে সভাপতির সঙ্গে লুকোচুরি করা হয়েছে। নারী লিগ নিয়ে আগামীতে পরিকল্পিতভাবে আগাতে চান বাফুফে সভাপতি। বাছাই করা লোকজন নারী লিগের দায়িত্ব পালন করবেন। 'হ্যাঁ দেখলাম তো, আগামীতে লিগ নিয়ে কীভাবে কী করা যায় সেটি বুঝে পা ফেলব।