বগুড়ার নবনিযুক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম। দায়িত্বভার গ্রহণের পরই তিনি জেলার পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সজাগ পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনগণের সেবায় পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনাও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বগুড়া পুলিশ লাইন্সে এক অনুষ্ঠানে নবাগত পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে দায়িত্বভার হস্তান্তর করেন বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি পরবর্তী কর্মস্থল হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এ যোগদান করবেন।
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু সুফিয়ান, জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আতোয়ার রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকে বদলি করা হয় এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মির্জা সায়েম মাহমুদকে। এর আগে তিনি খাগড়াছড়ি জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মির্জা সায়েম মাহমুদ মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর ভূমিকা রাখেন। অপরাধ দমনে তিনি আপসহীন অবস্থান নেন। পাশাপাশি প্রতিটি থানার প্রধান ফটকে জিডি, অভিযোগ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, পাসপোর্ট ও চাকরিসহ যেকোনো পুলিশি সেবা পেতে কোনো টাকা লাগে না—এমন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন টানানোর উদ্যোগ নেন। তার এই কঠোর অবস্থানের ফলে দালাল ও ঘুষের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে বন্ধ হয়।
দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ড ও মানবিক আচরণের কারণে তিনি একজন মানবিক পুলিশ সুপার হিসেবেও পরিচিতি লাভ করেছেন।
শাকিল রানা, বগুড়া প্রতিনিধি:
