হানিফ উদ্দিন সাকিব
হাতিয়া (হাতিয়া) প্রতিনিধি
স্পিড বোট চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দ্বীপাঞ্চল হাতিয়ার সাধারণ মানুষ ও ঈদযাত্রীরা। জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী কৃত্রিম জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় উপজেলায় স্পিড বোট চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা ঘাট পর্যন্ত রুটটি হাতিয়ার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন শত শত যাত্রী দ্রুত যাতায়াতের জন্য এই স্পিড বোটের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত দুই দিন ধরে সব স্পিড বোট বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প ধীরগতির নৌযান ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি দুর্ভোগও বেড়েছে।
নলচিরা এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, জরুরি কাজে প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে যাতায়াত করে জেলা শহর মাইজদীতে যেতে হয়। কিন্তু স্পিড বোট বন্ধ থাকায় এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় নৌযানই মানুষের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম। সেখানে যদি জ্বালানি সংকটের কারণে স্পিড বোট বন্ধ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।
স্পিড বোট চালক মনির হোসেন বলেন, ঈদ সামনে থাকলেও স্পিড বোট বন্ধ থাকায় কয়েকদিন ধরে তাদের কোনো আয়-রোজগার নেই। তিনি বলেন,সারাবছর কষ্ট করে কাজ করি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। কিন্তু এখন আয় বন্ধ থাকায় পরিবারের জন্য বাজার করা তো দূরের কথা,ছেলেমেয়েদের জন্য ঈদের নতুন কাপড়ও কিনতে পারছি না।
আয় বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, এস এম চৌধুরী ট্রেডার্স-এর মালিক জাফর চৌধুরী দিনু জানান, প্রায় ৮–৯ দিন আগে ডিপো থেকে তেল আনার জন্য তারা গাড়ি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাননি। পরে জানানো হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি ছাড়া তেল দেওয়া যাবে না।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম মেনে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করে ডিপোতে জমা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এক ফোঁটা তেলও সরবরাহ করা হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে স্পিড বোট চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অন্যথায় ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-1773742521.jpg)