মাগুরায় কৃষকদের জন্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত ও বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
মো: সাজ্জাদ হোসেন, মাগুরা প্রতিনিধি:
কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, তেল পেতে হয়রানি বন্ধ করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে মাগুরায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, মাগুরা জেলা শাখার উদ্যোগে সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মাগুরা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ জাসদ, মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি এটিএম মহব্বত আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, মাগুরা জেলার আহ্বায়ক প্রকৌশলী শম্পা বসু। এতে বক্তব্য দেন বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, মাগুরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষাবিদ কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে কৃষকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে শ্যালো মেশিননির্ভর সেচ ব্যবস্থার কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। অনেক কৃষক এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছেন না; কেউ কেউ সর্বোচ্চ ২ লিটার তেল পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কৃষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে কৃষি উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকারের আমলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ART)’ একটি বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। তাদের দাবি, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও শিল্পখাতের জন্য ক্ষতিকর।
সমাবেশে উল্লেখ করা হয়, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৬,৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, বিপরীতে বাংলাদেশ পাবে মাত্র ১,৬৩৮টি পণ্যে সুবিধা। এর ফলে দেশের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য কেনার সুযোগ সীমিত হবে।
এছাড়া মার্কিন বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই এ ধরনের চুক্তি করা আইন পরিপন্থী এবং এতে জনগণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
সমাবেশ থেকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সব চুক্তি বাতিল, কৃষকদের জন্য জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়।
এদিকে বক্তারা ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলা, ইরানে আক্রমণ, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এসব যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান।