শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর ডালে শহর গ্রামে নিভৃত পল্লীর ভেতর সাত বিঘা জমিজুড়ে গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন মিশরীয় হলুদ মাল্টার বাগান।এই অনন্য অভিজ্ঞতার জায়গাটি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল বাগান’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। শ্রীপুরের দূরবর্তী গ্রামের এই বাগান এখন অনাবিল আনন্দ, সৌন্দর্য আর কৃষির সম্ভাবনার নতুন গল্প হয়ে উঠেছে।
উদ্যোক্তা মতিউর রহমানের সদিচ্ছা আর শ্রমেই তৈরি হয়েছে এ সাফল্যের গল্প বাংলার মাটিতে মিশরীয় জাতের সুমিষ্ট রসালো হলুদ মাল্টা চাষ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব।
মতিউর রহমান পেশায় একজন চাকরিজীবী। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের বাসিন্দা এই যুবক বর্তমানে শ্রীপুরের একটি কারখানায় মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার পদে কর্মরত। চাকরির পাশাপাশি ২০২১ সালে ১০ বছরের জন্য সাত বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে শুরু করেন কমলা ও মাল্টা চাষ। ঝিনাইদহ থেকে আনা ৫০০টি মিশরীয় মাল্টা ও ১০০টি দার্জিলিং কমলার চারা রোপণ করেন তিনি।
প্রথম বছর ফলন কম হলেও এ বছর বাগানের ১০ ফুট উঁচু প্রতিটি গাছে এসেছে ৩০ কেজির মতো মাল্টা। বাগানে পাঁচজন শ্রমিক নিয়মিত পরিচর্যায় নিয়োজিত রয়েছেন।
বাগান দেখভালের দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,“এবারই শতভাগ গাছে ফলন এসেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি হয়েছে। আরও ২০ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রির আশা করছি।”
বাগানে প্রতি কেজি মাল্টার দাম রাখা হয়েছে ২৫০ টাকা। শুধু মাল্টা কিনতেই হয় না দর্শনার্থীরা বিশ টাকা টিকিট কেটে বাগান ঘুরে দেখতে পারেন এবং গাছ থেকে ছিঁড়ে স্বাদ নেয়ার সুযোগও পাচ্ছেন।
মাওনা থেকে ঘুরতে এসেছেন আকরাম বলেন,
“এখানে এসে পছন্দমতো মাল্টা নিজ হাতে ছিঁড়ে নিতে পারছি এটা অন্যরকম আনন্দ।”
মাওনা উত্তর পাড়া দারুলউলুম সামাদনগর মাদ্রাসার পরিচালক রেজাউল করিম বলেন,বিশাল এরিয়া জুড়ে চমৎকার মাল্টা বাগান গড়ে তোলা হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন,“মিশরীয় জাতের মাল্টার মান খুব ভালো। শ্রীপুরের লাল মাটি মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। মতিউর রহমানের সাফল্য অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করবে।”
উদ্যোক্তা মতিউর রহমান বলেন,“শখ থেকেই শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম আমাদের মাটিতে যদি মানসম্মত মাল্টা উৎপাদন হয়, তাহলে বিদেশ থেকে আমদানির প্রয়োজন কমবে। এবার ফলন খুব ভালো হয়েছে। আগামীতে আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে।”
