চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী উপমা দত্ত (২৩) এর শেষকৃত্য ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ১১টায় মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া মহাশ্মশানে তার দাহ সম্পন্ন হয়।
গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল কক্ষ থেকে উপমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ। জানা গেছে, ঘটনার সময় তিনি কক্ষটিতে একাই ছিলেন। আজ (৩১ জানুয়ারী) শনিবার ভোর ৫টায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাবা সন্দিপ কুমার দত্ত (শিক্ষক, সর্বসাংদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ও স্বজনরা দিশেহারা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উপমা আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই চরম সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো 'প্রেমঘটিত জটিলতা' নাকি অন্য কোনো মানসিক চাপ কাজ করছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেশীরা তাকে মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে হিসেবেই জানতেন। তাদের মতে, এমন হাসি-খুশি ও ভালো একটি মেয়ে কেন এই পথ বেছে নিল, তা তারা কল্পনাও করতে পারছেন না।
উপমার মৃত্যুতে কেবল তার পরিবার নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনার নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে। একটি সম্ভাবনাময় প্রাণের এভাবে ঝরে পড়া আবারও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের বিষয়টি সামনে নিয়ে এলো।
জসীম উদ্দীনঃ মাগুরা প্রতিনিধি