ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নকে ‘দ্বিখণ্ডিত’ না করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গতকাল সোমবার (২৭এপ্রিল-২০২৬ইং) সকালে বাসুদেব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় ১৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়ন ভেঙে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের অপচেষ্টা চলছে। স্থানীয় জনগণের অজান্তে ও মতামত উপেক্ষা করে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি এ বিষয়ে আগে থেকে এলাকাবাসীকে কিছুই জানানো হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইউনিয়ন বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে নানা অপপ্রচারও চালানো হচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাসুদেব ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম। এসময় অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসনের তদন্ত কার্যক্রমেও পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। বরিশল গ্রামে তদন্তের সময় ‘ভাড়াটিয়া লোকজন’ উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন বক্তারা, যা স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তবে বাসুদেব এলাকায় তদন্ত হলেও সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ তোলা হয়। নতুন ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমান অবস্থায় বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে জেলা সদরে যাতায়াত সহজ ও সুবিধাজনক। এ
অবস্থায় অন্য উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়া অযৌক্তিক এবং আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের সামিল।
তাদের দাবি, এলাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে। তারা আরও অভিযোগ করেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছেন, যার সঙ্গে সাধারণ জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও দাবি আদায়ের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ মোঃ সোহেল রানা
