কুষ্টিয়ার খাজানগর মোকাম ঘিরে চালের বাজারে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি চালকল মালিক ও অসাধু ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে দাম বাড়িয়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারে সংকট তৈরি করছেন। পাইকারিতে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং খুচরায় ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ধানের হাটের তথ্য বলছে, ধানের দাম নতুন করে বাড়েনি। মিনিকেট তৈরির সরু ধান মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং বিনা-৭ জাতের ধান ১ হাজার ৪০ টাকা মণে বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের হাতে ধানও প্রায় শেষ। অভিযোগ, চালকল মালিকেরা আগেই কম দামে বিপুল ধান কিনে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন এবং এখন সুবিধামতো দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছেন।
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মিলগেটে দাম বাড়ার অজুহাতে খুচরা বিক্রেতারাও চড়া দামে চাল বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহে ২৫ কেজির মিনিকেটের বস্তা ছিল ১ হাজার ৬২৫ টাকা; এখন তা বেড়ে ১ হাজার ৭৫০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। ভালো মানের মিনিকেট খুচরায় ৭০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
বাসমতির ক্ষেত্রেও দাম বেড়েছে। মিলগেটে ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে; খুচরা বাজারে ভোক্তাদের ৯০ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মিলাররা দাম বাড়ালে খুচরা বিক্রেতারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে চাল কিনে বিক্রি করতে হন। ক্রেতারা বলছেন, নিয়মিত বাজার তদারকি ও মনিটরিংয়ের অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
দাম বাড়ার পেছনে খাজানগরের কয়েকটি রাইস মিলের মালিকেরা ধানের বাড়তি দাম ও বৃষ্টিতে চাল শুকাতে সমস্যার কথা বলছেন। তবে অনেকেই এটিকে অজুহাত বলে মনে করছেন।
জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানিয়েছেন, কে বা কারা অনিয়ম করে চালের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের তথ্য ও তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে মিলগুলোতে সমন্বিত তদন্ত অভিযান চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অসাধু চাল ব্যবসায়ীদের গোপন তথ্য প্রশাসনকে জানাতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আক্তারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া।