নোয়াখালী, চাটখিল থানার,পুরুষোত্তমপুরের বাসিন্দা নাজমা আক্তার একজন বিধবা, অসহায় ও নিরীহ নারী। স্বামী মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে নাজমুল আলম নাঈম চাটখিল মেডিনোভা জেনারেল হাসপাতালের ফার্মেসিতে চাকরি করে সংসার চালিয়ে আসছেন।
আজ ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী স্থানীয় সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর পরিবারের ওপর নেমে আসা একাধিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও মিথ্যা মামলার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
নাজমা আক্তার অভিযোগ করেন, একই হাসপাতালের কর্মী আসমা আক্তার (২৭) তাঁর ছেলে নাজমুলকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করতে থাকে। নাজমুল ইসলাম নাঈম আসমা আক্তার বিবাহিত বিষয়টি জানা পর সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করলে আসমা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ছেলেকে চাকরিচ্যুত করানোর ষড়যন্ত্র শুরু করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি আসমার স্বামীসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জানাজানি হলে আসমা তাঁর সংসার রক্ষার নামে অদ্ভুত এক চক্রান্ত সাজায় নিজের নাবালিকা ছোট বোন তামান্না আক্তার সাথীর নামে ভূয়া নিকাহনামা তৈরি করে ছেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে থাকে।
তিনি অভিযোগ করেন, নোয়াখালী জজকোর্টের পিছনের একটি কাজী অফিসে জনৈক ভুয়া কাজীর মাধ্যমে ১১ বছর বয়সী তামান্না আক্তার সাথী নামে তাঁর ছেলে নাজমুলকে স্বামী দেখিয়ে একটি জাল নিকাহনামা তৈরি করা হয়।
পরে হাসপাতালের ম্যানেজারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি আসল নথি সংগ্রহ করেন এবং কাজী অফিসে গিয়ে বালাম রেজিস্টার পরীক্ষা করলে দেখা যায় উক্ত তারিখ, বালাম নম্বর ও পৃষ্ঠায় সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তির বিবাহ নিবন্ধিত রয়েছে। কাজী কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জানান যে, নাজমুল আলম নাঈম ও তামান্না আক্তারের কোন বিবাহ এই কার্যালয়ে সম্পন্ন হয়নি।
তিনি জানান, এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর আসমা আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁর ছেলে নাজমুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা দায়ের করেন। আদালতে ভূয়া নিকাহনামা যাচাই করে সত্য উদঘাটিত হলে নাজমুল জামিন পান এবং কাজীকে রেজিস্টারসহ হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা আক্তার আরও জানান, ভূয়া নিকাহনামা ও মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় দুই বোনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাগের মাথায় তামান্না নিজের হাতে নিজেই আঘাত করে হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পরে ঐ ঘটনার এক মাস পর তামান্না আক্তার সাথী ভর্তি কাগজ দেখিয়ে আসমা আক্তার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১ নোয়াখালীতে মেডিনোভা হাসপাতালের ম্যানেজার সিরাজুল ইসলাম বাবুকে ১নং আসামি, কুমিল্লার দিলিপ চন্দ্র সিংহকে ২নং আসামি এবং তাঁর দুই ছেলে নাদিম ও নাজমুলকে ৩ ও ৪নং আসামি করে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন যা নাজমা আক্তারের ভাষায় "সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, উদ্দেশ্যমূলক ও হয়রানিমূলক।"
তিনি বলেন,
“জাল নিকাহনামা তৈরি, অপপ্রচার, মিথ্যা যৌতুক মামলা ও গণধর্ষণ মামলার মাধ্যমে আমার দুই ছেলের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একজন বিধবা মায়ের অসহায় সংসার ভেঙে দেওয়ার এই ষড়যন্ত্র বন্ধ হওয়া জরুরি।”
সংবাদ সম্মেলনে নাজমা আক্তার ভুক্তভোগী প্রশাসনের কাছে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং পুলিশি হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
নোয়াখালী জেলা সদর উপজেলা প্রতিনিধি।
মোঃ আরিফ হোসেন।
