নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার বিস্ময়ভূমি ‘চর ওসমান–নিঝুম দ্বীপ’ জাতীয় উদ্যান আবারও সরগরম। শিয়াল–কুকুরের আক্রমণে আহত হয়ে বনবিভাগের তত্ত্বাবধানে সুস্থ হওয়া তিনটি হরিণ—বিজলি, সোহাগি ও গোলাপি—এখন পর্যটকদের আনন্দের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। বনবিভাগের দেওয়া এই তিন বন্ধুসুলভ হরিণ প্রতিদিনই বিট অফিসের আশপাশে বিচরণ করে মানুষের সান্নিধ্যে দারুণভাবে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার জাহাজমারা রেঞ্জের বিট এলাকা ঘুরে দেখা যায় বনের গভীরে হরিণ দেখা না গেলেও অফিসের সামনে এই তিন হরিণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পর্যটকদের সামনে চলে আসে। পর্যটকদের ডাকে তারা এগিয়ে আসে, খাবার দিলে শিশুর মতো কাছে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ায়—ফলে দর্শনার্থীদের আনন্দ মুহূর্তেই বহুগুণ বেড়ে যায়।
চর ওসমান–নিঝুম দ্বীপ বিট কর্মকর্তা ও ডেপুটি রেঞ্জার মো. জাহিদ প্রমানিক খবরের কাগজকে বলেন, বনের ভেতরে রাস্তা পার হওয়ার সময় শিয়াল–কুকুরের আক্রমণে অনেক হরিণ আহত হয়। যাদের উদ্ধার করা যায়—স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের সহায়তায় চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। বেশির ভাগ সুস্থ হওয়া হরিণ বনে ফিরে যায়, তবে এই তিনটি হরিণ মানুষের সান্নিধ্য পছন্দ করে বলে অফিসের আশপাশেই থাকে।
তিনি আরও জানান, হরিণ যেন মিষ্টি পানির অভাবে লোকালয়ে না আসে সে জন্য বনাঞ্চলের ভেতরে তিনটি স্থানে পুকুর খনন করা হয়েছে। কুকুর দমনের বিষয়ে তিনি বলেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে কুকুর নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। পর্যটকদের কাছেও এই তিন হরিণ এখন বিশেষ আনন্দের উৎস।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক সুজন হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, নিঝুম দ্বীপে আসার বড় আকর্ষণ এখন এই তিন হরিণ। কাছে ডেকে খাবার দিলে যেভাবে এগিয়ে আসে—অবিশ্বাস্য! মনে হয় যেন এরা মানুষকে চেনে। এত কাছ থেকে হরিণ দেখা সত্যি দারুণ অভিজ্ঞতা।
প্রতিদিনই দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য পর্যটক এই অনন্য দৃশ্য দেখতে নিঝুমদ্বীপ বিট অফিস এলাকায় ছুটে আসছেন। আহত অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ানো বিজলি, সোহাগি ও গোলাপির উপস্থিতি নিঝুম দ্বীপের প্রকৃতি ও পরিবেশে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। মানুষ–প্রকৃতির এই অনন্য সহাবস্থানের মায়ায়—বিজলি, সোহাগি ও গোলাপি এখন নিঝুম দ্বীপের হাসি–আনন্দের মধ্যমণি।
