সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শীতের আগমনে হাতিয়ায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

শীতের আগমনে হাতিয়ায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

শীতের আগমনে হাতিয়ায় খেজুর গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত গাছিরা

শীতের হাওয়া বইতে শুরু করতেই নোয়াখালী জেলার বিছিন্ন  দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে খেজুর গাছ পরিচর্যার মৌসুম। স্থানীয়ভাবে গাছ কাটা নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় শীতকালীন খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি। রস থেকে তৈরি নলেন গুড় ও পাটালি হাতিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় মৌসুম শুরুর আগেই গাছিদের বাড়তি ব্যস্ততা তৈরি হয়েছে।
ইতোমধ্যে গাছিরা দা ধার দেওয়া, পাটের দড়ি তৈরি, ভাঁড় সংগ্রহ, রস জ্বালানোর চুলা ঠিক করা এসব প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। গাছ ছোলার পর সাধারণত ১০–১২ দিন পর রস নামতে শুরু করে, তাই এখনই চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি।
হাতিয়ার গ্রামাঞ্চলে হাঁটলে জমির আইলজুড়ে সারি সারি খেজুর গাছ নজরে আসে। এর মধ্যে নিঝুমদ্বীপ, সোনাদিয়া, তমরউদ্দি, বুড়িরচর, চরকিং ও চরইশ্বর ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে খেজুর গাছের ঘনত্ব তুলনামূলক বেশি। শীত এলেই এসব এলাকায় রস বিক্রি, গুড় তৈরি ও রস জ্বালানো নিয়ে চলে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য।গাছ ছোলার সময় থেকেই গাছিদের কাজের ব্যস্ততা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। গাছ পরিষ্কার, দড়ি বানানো, ভাঁড় ঝুলানোর দড়ি তৈরি, রস জ্বালানোর চুলা প্রস্তুত এসবই তাদের নিয়মিত কাজের অংশ। মৌসুমে রসের চাহিদা বেশি থাকায় এই সময়টিতে উপার্জনও তুলনামূলক ভালো হয়
কোরালিয়া গ্রামের গাছি সাহাবউদ্দিন, চরকিংয়ের ফিরোজ উদ্দিন ও নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের নামারবাজার গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা খেজুর রস সংগ্রহের কাজ করছেন। তাদের মতে, এটি মৌসুমী হলেও লাভজনক একটি পেশা।
নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের মদিনা গ্রামের আব্দুল হাদী বলেন, তার ২০–৩০টি গাছে পরিচর্যার কাজ চলছে। একেকটি গাছ ছোলা থেকে রস পেতে গাছিকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। আর এক ভাঁড় রস বাজারে বিক্রি হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।
গাছি আব্দুল আলী ও সৌরাভ হোসেন জানান, এক ভাঁড় রস জ্বালাতে প্রায় এক কেজির মতো গুড় পাওয়া যায় যার দাম ২০০–২৫০ টাকা। একই পরিমাণ রস থেকে পাটালিও তৈরি হয়। তবে তারা আক্ষেপ করে বলেন, হাতিয়ায় এখনও প্রচুর খেজুর গাছ থাকলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় গাছের সংখ্যা কমে গেছে। আগের মতো মাঠভরা খেজুরবাগান বা চুলায় রস জ্বালানোর দৃশ্য এখন আর তেমন দেখা যায় না। ফলে নলেন গুড় ও পাটালির প্রাপ্যতাও কমে আসছে।
হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাজেদ সবুজ জানান, শীতের মৌসুমকে ঘিরে গাছিরা ব্যাপকভাবে গাছ পরিচর্যা করছেন এবং রস সংগ্রহে তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে খেজুর রসকে কেন্দ্র করে হাতিয়ার গ্রামীণ জনজীবনে যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা স্থানীয়দের শীতকালকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।