‘দূষণমুক্ত পরিবেশ, বাইসাইকেলে দেখবো দেশ’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের ৬৪টি জেলা বাইসাইকেলে ভ্রমণ সম্পন্ন করেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামের তরুণ রুহিত দত্ত। বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় মৌলভীবাজার এমসিসি পয়েন্টে (মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব চত্বর) তাকে বীরের অভ্যর্থনা জানায় মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটি। মাত্র ২০ বছর বয়সী এই তরুণ সাইক্লিং অ্যাক্টিভিস্ট জানান,স্বপ্ন ছিল একদিন পুরো বাংলাদেশ ঘুরে দেখা-তাও নিজের প্রিয় সাইকেল নিয়ে। সেই স্বপ্নই বাস্তব করতে গত ৮ অক্টোবর সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে অতিক্রম করেন সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা,ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ঢাকা, শেরপুর, কুড়িগ্রামসহ উত্তরাঞ্চলের একের পর এক জেলা। পরে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া হয়ে দেশের ৬৩টি জেলা ভ্রমণ শেষে নিজের জন্মভূমি মৌলভীবাজারে এসে শেষ করেন এই মহাযাত্রা।
এদিকে রুহিত জানান,মৌলভীবাজার শহরের লক্ষ্মীকোলা এলাকার ব্যবসায়ী তপন কান্তি দত্ত ও রীনা রানী দত্তের দ্বিতীয় ছেলে তিনি। বড় ভাই তন্ময় দত্ত চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যয়নরত। রুহিত সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। দেশঘোরা ছিল বহু দিনের ইচ্ছা,কিন্তু বাধা ছিল সময় আর অর্থ। পরে বাবার দেওয়া সঞ্চিত অর্থই তাকে নতুন সাহস দেয়।
রুহিত বলেন, “বাবা বলেছিলেন-যদি সত্যিই দেশের সব জেলা দেখতে চাই,তাহলে চেষ্টা করে যেতে হবে। তাঁর দেওয়া সেই টাকাই আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে গেছে।
রুহিতের বাবা তপন কান্তি দত্ত বলেন, “ছেলের এই উদ্যোগকে আমরা শুরু থেকেই সমর্থন করেছি। সে শুধু নিজের স্বপ্নই পূরণ করেনি-বরং দেশের পরিবেশ রক্ষার বার্তাও ছড়িয়ে দিয়েছে। এটি আমাদের পরিবারের জন্য বড় গর্ব। মা রীনা রানী দত্ত বলেন, “প্রতিদিন চিন্তায় ছিলাম,ছেলে সুস্থভাবে ফিরবে তো? কিন্তু আজ তাকে মানুষের ভালোবাসায় ঘেরা অবস্থায় ফিরে আসতে দেখে বুক ভরে গেছে। রুহিত জানান,তার এই ভ্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া।
“মানুষ যদি মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সাইকেল ব্যবহার শুরু করে, বায়ুদূষণ অনেক কমে যাবে। সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মানুষের ভালোবাসায় মুগ্ধ রুহিত আরও বলেন, “বাংলাদেশকে না ঘুরলে বোঝাই যায় না এই দেশ কতটা সুন্দর। প্রতিটি জেলার মানুষ আমাকে যে আপ্যায়ন করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এত অতিথিপরায়ণ মানুষ না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করতে পারতাম না। এদিকে রুহিত দত্তের এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত মৌলভীবাজার সাইক্লিং কমিউনিটি। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন,“রুহিত শুধু মৌলভীবাজার নয়-পুরো দেশের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার মতো তরুণরা পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যত গড়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”