গাজীপুরের শ্রীপুরে শীতের আমেজ নেমে আসতেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির ব্যস্ততা। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে গাছ থেকে রস ঝরার টুপটাপ শব্দ যেন জানিয়ে দিচ্ছে নতুন মৌসুমের আগমনী বার্তা। প্রতিদিন গাছিরা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে তা থেকে তৈরি করছেন সুস্বাদু খাঁটি গুড়। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি খেজুর গুড় বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়, পাইকারি বাজারে দাম আরও বেশি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
তবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও গাছ ভাড়ার দাম বাড়ায় গাছিদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, “প্রতি বছরের মতো এবারও গুড় তৈরি শুরু করেছি। এখানকার গুড়ের স্বাদ অনেক ভালো। এবছর নাটোর থেকেও কয়েকজন গাছি এসে ছোলা মার্কেট এলাকায় গাছ ভাড়া নিয়ে কাজ করছেন।”
গাছি আবদুল কুদ্দুস জানান, “আমরা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে গুড় তৈরি করছি। কিন্তু গাছ ভাড়া ও সবকিছুর দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। তাই প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৭০ টাকা দাম বাড়তি পড়ছে।” তাঁর দাবি, ১০ কেজি রস জ্বালিয়ে মাত্র ১ কেজি খাঁটি গুড় তৈরি হয়।
উপজেলার ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, “শীত মৌসুমে খেজুরের গুড় আমাদের স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। আধুনিক পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ পেলে গাছিরা আরও লাভবান হতে পারবেন।” এদিকে চাহিদা বাড়ার সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চিনি, আখের গুড়, আটা ও ফ্লেভার মিশিয়ে ভেজাল গুড় বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শ্রীপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “এর আগের মতো এখন আর খেজুরগাছ কাটতে দেখা যায় না। গাছ কমে গেছে, ফলে গুড় উৎপাদনও আগের তুলনায় কমছে।” গাছিরা মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা ও প্রণোদনা মিললে গাজীপুরে গুড় উৎপাদন আরও বাড়বে। তবে নতুন প্রজন্ম লাভজনক পেশা ও ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়ায় খেজুর রস–গুড় শিল্প দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।