ঠাঁই দাঁড়িয়ে কোটি টাকার পাকা সেতু। কিন্তু সেতুর দুই পাশে নেই অ্যাপ্রোচ সড়ক। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি পড়ে আছে অচল অবস্থায়। নিরুপায় হয়ে গ্রামের মানুষই নিজেরা সেতুর দুই পাশে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সিঁড়ি তৈরি করে চলাচল করছেন। এখন ওই নড়বড়ে কাঠের সিঁড়িই হয়ে উঠেছে কোটি টাকার সেতুতে ওঠানামার প্রধান ভরসা।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি এলাকায় এমন অদ্ভুত সেতুর দেখা মিলেছে। এ সেতুর কারণে পারুলী নদীর দুই তীরের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। স্কুল–কলেজগামী শত শত শিক্ষার্থী ও রোগী-শিশু-বৃদ্ধ প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে কাঠের সিঁড়ি বেয়ে সেতু পার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মাটির যোগান নেই এ অজুহাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ছাড়াই কাজ ফেলে রেখে পালিয়েছে। ফলে নতুন সেতু নির্মাণ হলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি; বরং বেড়েছে।
৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস (পিআইও) এর বাস্তবায়নে কাজটি সম্পন্ন করে মেসার্স মিথুন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ আলম বলেন, ‘আগে বাঁশের সাঁকো ছিল, অনেক কষ্ট করেছি। সেতু হলো ভেবে স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু এখন কাঠের সিঁড়ি বেয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্ষায় দুই শিক্ষার্থী পা পিছলে পানিতে পড়ে যায় কী ভয়াবহ অবস্থা বুঝতেন!’
অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিদ হাসান জানায়, ‘শুরুতে কাঠের সিঁড়িটা মজবুত ছিল। এখন নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভয় পেলে বড়রা হাত ধরে পার করে দেয়।’
স্থানীয় কৃষক আমির হোসেন বলেন, ‘সেতু দেখে মানুষ খুশি হয়েছিল। কিন্তু এক বছর ধরে নতুন দুর্ভোগে পড়েছে সবাই। ভারি কিছু নিয়ে সেতু পার হওয়া মানে মৃত্যুঝুঁকি।’
এ বিষয়েমেসার্স মিথুন এন্টারপ্রাইজের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শামীমা সুলতানা বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদের মিটিংয়ে বিষয়টি তোলা হবে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
ইউনিয়নের প্রশাসক ডা. গোলাম মুরশেদ মুরাদ বলেন, ‘আমাকে কেউ বিষয়টি জানায়নি। এখনই খোঁজ নিচ্ছি। সাময়িকভাবে হলেও কিছু ব্যবস্থা নেব।’
শ্রীপুর উপজেলা পিআইও কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসাইন উজ্জল বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারকে বলে সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোস সড়ক তৈরি করা হবে।’
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ বলেন, ‘মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টি দেখছি।