প্রিমিয়ার লিগের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের চলতি মৌসুমে অবস্থাটা একেবারে নাজুক। শিরোপার দৌড়ে থাকা তো দূরে, আগামী মৌসুমের ইউরোপা লিগে খেলা নিয়েও শঙ্কায় তারা। দলের এ বাজে অবস্থায় সব দায় নাকি দেওয়া হচ্ছে মোহাম্মদ সালাহকে। আর এ জন্য ক্লাব তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লাবকে নিয়ে বিস্ফোরক সব মন্তব্য করেন সালাহ। কোচ আর্না স্লটের সঙ্গে সম্পর্কের বাজে অবস্থাও তুলে ধরেন তিনি। ইঙ্গিত দেন আগামী দলবদল মৌসুমেই ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার।
অথচ এক বছর আগেও চিত্রটা ছিল একেবারে ভিন্ন। প্রিমিয়ার লিগের গত আসরে বেশ দাপট দেখিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লিভারপুল। যেখানে মূল ভূমিকায় ছিলেন সালাহ। লিগে সর্বোচ্চ গোল ও অ্যাসিস্ট এসেছিল তার পা থেকে। ২৯ গোলের পাশাপাশি ১৮টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন তিনি। সে নায়ককেই নাকি এখন গলার কাঁটা মনে করা হচ্ছে। দলের করুণ অবস্থায় পুরো দয়টা তার ওপর এসেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
১৫ ম্যাচ শেষে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে লিগ টেবিলের আটে অবস্থান করছে লিভারপুল। সবশেষ তিন লিগ ম্যাচে উপেক্ষিত তিনি। ওয়েস্ট হ্যাম ও সান্দারল্যান্ডের বিপক্ষে স্কোয়াডে ছিলেন না। আর সবশেষ লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে স্কোয়াডে থাকলেও পুরো ম্যাচ কাটাতে হয়ে বেঞ্চে বসে। ২০১৭ সালে লিভারপুলে যোগ দেওয়ার পর এবারই প্রথম এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এ মিশরীয় তারকা। এর আগে তিনি টানা ৫৩টি লিগ ম্যাচে দলের হয়ে শুরুর একাদশে ছিলেন, যা ভেঙেছে গত সপ্তাহে লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে।
ক্লাবের উপেক্ষা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সালাহ বলেন, ‘বিশ্বাস করতে পারছি না, আমি ৯০ মিনিট বেঞ্চে বসে কাটিয়েছি। তিনবার এমন হলো। আমার ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা প্রথম। আমি বেশ হতাশ, এত বছর ধরে ক্লাবের জন্য এত কিছু করলাম। বিশেষ করে গত মৌসুমের কথা, মনে হচ্ছে ক্লাব আমাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানাচ্ছে। এমনটাই আমার মনে হচ্ছে।’
