৫৮ দিন বন্ধ থাকার পর ও বঙ্গোপসাগরে ইলিশের সংকট তৈরি হয়েছে। একারণে চরম হতাশ কক্সবাজারের জেলে, ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ীরা। মৎস্যজীবীদের দাবি, গত ১৪ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত জেলেদের সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। তাদের আশা ছিল ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে কাংখিত ইলিশ মাছ ধরা পড়বে। কিন্তু বর্তমানে হয়েছে তার উল্টো।
কক্সবাজার জেলা সবচেয়ে বড় মাছের বাজার শহরের ফিশারীঘাটস্থ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, গত ২ যুগ ধরে মৎস্য ব্যবসায় জড়িত। অথচ বর্তমানে ইলিশের যে সংকট রয়েছে তা কখনও দেখেননি।
২৭ জুন শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ২০ টি ফিশিং ট্রলার ঘাটে এসেছে। যে সব ট্রলারে বিভিন্ন প্রজাতির স্বল্প সংখ্যক মাছ ছিল। এর মধ্যে প্রতি ট্রলারে ইলিশের সংখ্যা ছিল ১০-১২ টি। তাও আকারে খুবই ছোট। এসব ইলিশ কেজি বিক্রি হয়েছে ২৪ শত থেকে ২৮ শত টাকা। অন্যান্যগুলো এককেজিতে ৬-৮ টা। বিক্রি হয়েছে ৮ শত টাকা কেজিতে।
তিনি বলেন, অন্যান্য বছর জুন মাসের শেষে এসে কক্সবাজারে ইলিশের সয়লাব হয়ে উঠতো। কিন্তু এবার তা হয়নি।জেলেরা বলছেন, নিয়ম মতে অক্টোবরে ডিম ছাড়ার পর ছয়-সাত মাস ইলিশ মাছ নদীতে থাকে। এরপর নদীর পানি ঘোলা হয়ে যাওয়ার কারণে এপ্রিলের শেষে বা মে মাসের প্রথম সপ্তাহ সাগরে চলে যায়। এ হিসেব মতে সাগরে ইলিশ ধরা কথা কিন্তু এখন ইলিশ শূণ্য বললে চলে ।
কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বৈদ্য জানান, ১৬ জুন থেকে ২৭ জুন ১১ দিনে কক্সবাজারের ঘাটে ২১২.৮০ টন মাছ এসেছে। যেখানে ইলিশ ছিল ৯.৩৯ টন।
মীর কাশেম আজাদ কক্সবাজার
