ভারতের উদীয়মান প্রযুক্তি বাজারে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফট। আগামী বছরগুলোতে তারা সম্মিলিতভাবে ৫২.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। যা প্রযুক্তি খাতে এশিয়ার সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হতে যাচ্ছে।
অ্যামাজন বুধবার ঘোষণা করেছে, তারা ২০৩০ সালের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত ডিজিটালাইজেশন, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ভারতে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। এর ঠিক একদিন আগে, মঙ্গলবার মাইক্রোসফট দেশের এআই (আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স) ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয়।
ভারত বর্তমানে একটি উদীয়মান এআই এবং ক্লাউড অবকাঠামো কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিপুল মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং সম্প্রতি দেশটিতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি বিনিয়োগের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের আগে গুগল এআই ডেটা হাব তৈরির জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা করে।
চলতি সপ্তাহে ইন্টেল মুম্বাই-ভিত্তিক টাটা ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্ব ঘোষণা করেছে। টাটার ১৪ বিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) উৎপাদন পরিকল্পনার প্রথম প্রধান গ্রাহক হবে ইন্টেল।
মঙ্গলবার মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলের সঙ্গে বৈঠকের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লেখেন, যখন এআই-এর কথা আসে, তখন বিশ্ব ভারত নিয়ে আশাবাদী।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তাদের এই ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ভারতে পূর্বে করা ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত হবে, যা অ্যামাজনকে ভারতে বৃহত্তম বিদেশী বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এই বিনিয়োগের একটি মূল অংশ স্থানীয় ক্লাউড এবং এআই অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করা হবে।
মাইক্রোসফটের নতুন এই অঙ্গীকারটি চলতি বছরের শুরুর দিকে ঘোষিত ৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের পর এলো। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হায়দ্রাবাদে একটি নতুন ‘হাইপারস্কেল ক্লাউড অঞ্চল- ডেটা সেন্টারগুলোর একটি ক্লাস্টার, যা ২০২৬ সালের মাঝামাঝি চালু হবে।
ডেটা সেন্টারগুলো হল কেন্দ্রীভূত ভৌত সুবিধা যেখানে কম্পিউটার সার্ভার, আইটি অবকাঠামো এবং নেটওয়ার্ক সরঞ্জামগুলো হোস্ট করা হয়। পানির ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ভারত যে এআই ভ্যালু চেইনে ফোকাস করছে, তার একটি মূল উপাদান হল এই ডেটা সেন্টারগুলো।
এছাড়াও, ভারতকে মাইক্রোসফটের ‘পাবলিক ক্লাউড’-এ প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে, যা সংস্থাগুলোকে সংবেদনশীল তথ্য দেশের অভ্যন্তরে রেখে তাদের ডেটা এবং অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা করতে সহায়তা করবে। এই বিনিয়োগটি কানাডা, পর্তুগাল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সহ বিভিন্ন দেশে মাইক্রোসফটের ২৩ বিলিয়ন ডলারের এআই সম্প্রসারণের অংশ।
মাইক্রোসফট এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ভারতীয় সরকারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে এআই একীভূত করার লক্ষ্য নিয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৩১০ মিলিয়ন অনানুষ্ঠানিক কর্মীকে সহায়তা করা হবে।
এই ঘোষণার ফলে ভারত সেমিকন্ডাক্টর (চিপ) উৎপাদনে আরও জোর দিচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে দেশিয় চিপ তৈরির শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
যদিও ভারত এআই-এর জন্য একটি বিশাল বাজার- যার ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক বিলিয়ন এবং প্রযুক্তি প্রতিভার বিশাল ভান্ডার রয়েছে- এটি এখনও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বৈশ্বিক শক্তির তুলনায় পিছিয়ে আছে। তবে, চিপ-উৎপাদন সুবিধা স্থাপনের জন্য সরকার উদার ভর্তুকি দেওয়ায় দেশটি চিপের মতো মূল কম্পিউটিং প্রযুক্তিগুলোতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করছে।
এছাড়াও, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের নিজস্ব সার্বভৌম এআই মডেল উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
