মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি হলিউড তারকা বারবারা স্ট্যানউইকের জন্মবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি হলিউড তারকা বারবারা স্ট্যানউইকের জন্মবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি হলিউড তারকা বারবারা স্ট্যানউইকের জন্মবার্ষিকী

আজ কিংবদন্তি মার্কিন অভিনেত্রী, মডেল ও নৃত্যশিল্পী বারবারা স্ট্যানউইক-এর জন্মবার্ষিকী। আধুনিক হলিউডের ইতিহাসে তিনি এমন একজন শিল্পী, যিনি অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা, শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব এবং বহুমাত্রিক চরিত্রায়ণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন—উভয় ক্ষেত্রেই অমর হয়ে আছেন। জন্মবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।


১৯০৭ সালের ১৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে রুবি ক্যাথরিন স্টিভেন্স (Ruby Catherine Stevens) নামে তাঁর জন্ম। বাবা বায়রন ই. স্টিভেন্স এবং মা ক্যাথরিন অ্যান "কিটি" ম্যাকফি স্টিভেন্স। মাত্র চার বছর বয়সেই তিনি মা-বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েন এবং জীবনের বড় একটি সময় পালক পরিবারের কাছে বেড়ে ওঠেন। দুঃসহ শৈশবের সেই সংগ্রামই তাঁকে পরবর্তীকালে এক অসাধারণ দৃঢ়চেতা মানুষ ও শিল্পীতে পরিণত করে।


মাত্র ১৬ বছর বয়সে, ১৯২৩ সালে তিনি বিখ্যাত Ziegfeld Follies-এর কোরাস দলের সদস্য হিসেবে মঞ্চজীবন শুরু করেন। এরপর ব্রডওয়েতে অভিনয় করে দ্রুতই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯২৭ সালের জনপ্রিয় নাটক "Burlesque"-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে ব্রডওয়ের অন্যতম সম্ভাবনাময় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।


১৯২৯ সালে সবাক চলচ্চিত্রে তাঁর অভিষেক ঘটে। পরিচালক ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপরা পরিচালিত "Ladies of Leisure" (১৯৩০) চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
"Night Nurse" (১৯৩১), "Baby Face" (১৯৩৩) এবং "The Bitter Tea of General Yen" (১৯৩৩)-এর মতো চলচ্চিত্রে সাহসী ও ব্যতিক্রমী অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।


১৯৩৭ সালে "Stella Dallas"-এ অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড (অস্কার)-এর শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে মনোনয়ন লাভ করেন।
১৯৩৯ সালের "Union Pacific" চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয়ও ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এই চলচ্চিত্রটি ইতিহাসে প্রথম কান চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ সম্মান 'Palme d'Or'-এর বিজয়ী চলচ্চিত্র হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণীয়।


১৯৪১ সালে তিনি দুটি কালজয়ী স্ক্রুবল কমেডি—"Ball of Fire"-এ গ্যারি কুপার এবং "The Lady Eve"-এ হেনরি ফন্ডার বিপরীতে অভিনয় করেন। "Ball of Fire"-এর জন্য তিনি দ্বিতীয়বার অস্কার মনোনয়ন পান, আর "The Lady Eve" আজও সর্বকালের অন্যতম সেরা আমেরিকান কমেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।


১৯৪৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কিংবদন্তি ফিল্ম নোয়ার "Double Indemnity"-তে ফ্রেড ম্যাকমারির বিপরীতে তাঁর অভিনীত ফিলিস ডিট্রিকসন চরিত্রটি চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফেম ফাতাল (Femme Fatale) চরিত্র হিসেবে স্বীকৃত। অনেক সমালোচকের মতে, এই চরিত্রের জন্য তাঁর অস্কার জয়ী হওয়া উচিত ছিল।
পরবর্তীকালে "Christmas in

Connecticut" (১৯৪৫), "The Strange Love of Martha Ivers" (১৯৪৬) এবং "Sorry, Wrong Number" (১৯৪৮)-এ তাঁর অভিনয় তাঁকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যায়। "Sorry, Wrong Number" চলচ্চিত্রের জন্য তিনি চতুর্থ ও শেষবারের মতো অস্কার মনোনয়ন লাভ করেন।
১৯৫০-এর দশকে "Titanic" (১৯৫৩), "All I Desire" (১৯৫৩), "Executive Suite" (১৯৫৪) এবং "There's Always Tomorrow" (১৯৫৬)-এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।
চলচ্চিত্রে দীর্ঘ সাফল্যের পর ১৯৬০-এর দশকে তিনি টেলিভিশনে মনোনিবেশ করেন এবং "The Barbara Stanwyck Show", "The Big Valley" ও "The Thorn Birds"-এ অভিনয়ের জন্য তিনটি Primetime Emmy Award অর্জন করেন।
প্রায় ছয় দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ৮৫টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সেসিল বি. ডি-মিল, ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপরা, ফ্রিটজ ল্যাংসহ বহু কিংবদন্তি পরিচালকের প্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন। ১৯৪৪ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নারী অভিনয়শিল্পীদের একজন ছিলেন।


তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮২ সালে তিনি সম্মানসূচক অস্কার (Honorary Academy Award) এবং ১৯৮৬ সালে Cecil B. DeMille Award লাভ করেন। এছাড়া American Film Institute (AFI) তাঁকে ক্লাসিক আমেরিকান চলচ্চিত্রের একাদশ শ্রেষ্ঠ নারী তারকা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তাঁর পরিচালক জ্যাক টুরনেয়ার একবার বলেছিলেন—
"She lives for only two things, and both of them are work."
"তিনি জীবনে মাত্র দুটি বিষয়ের জন্যই বেঁচে থাকেন, আর দুটিই হলো—কাজ।"
অবসর জীবনেও তিনি প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে দাতব্য কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।