১১ বছরের সম্পর্কের পর গত মাসে বিয়ে করেছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরের রিশভ রাজপুত ও সোনালি চৌকস। নিজেদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে-ও করেছেন শেয়ার। তবে, ঠিক এরপরই আনন্দ পরিণত হয় তুক্ততায়। তাদের ছবি ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন এই নব দম্পতি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি'র প্রতিবেদনে বলা হয়, কলেজে পড়াশোনার সময় পরিচয় হয় রিশভ-সোনালি'র। সময়টা ছিলো ২০১৪ সাল। দীর্ঘদিন একসাথে থাকা অবস্থায় কখনও কেউ তাদের গায়ের রঙ নিয়ে মন্তব্য করেনি বলে জানান রিশভ রাজপুত। বলেন, 'এত বছর ধরে আমরা একসঙ্গে আছি, কখনও কেউ আমাদের ‘ম্যাচ হয়নি’ বলে মন্তব্য করেনি। আমাদের জন্য এটি কেবল আনন্দের মুহূর্ত হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু মানুষের প্রতিক্রিয়া দেখে সত্যিই হতবাক হয়ে গেলাম।'
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের ছবি দেখে শুভেচ্ছার সঙ্গে মিলিত হয়েছে কটূ মন্তব্যের এক অদ্ভুত কম্বো। মূলত, বর রিশভের ডার্কার স্কিন কালার' নিয়ে এসেছে নেতিবাচক কমেন্ট।
তবে, ট্রলাররা কনে সোনালিকেও ছাড়েনি। অনেকেই ধরে নিয়েছেন, তিনি 'অর্থের কারণে' বিয়ে করেছেন। কেউ কেউ তাকে 'গোল্ড-ডিগার' বা সরকারি চাকরির সুবিধার জন্য বিয়ে করেছে বলে মন্তব্য করেছেন।
সোনালি চৌকসি বলেছেন, 'এ ধরনের মন্তব্য খুবই বিরক্তিকর ও দুঃখজনক। মানুষ আমাদের সম্পর্ক নিয়ে এভাবে ভাবছে—এটি ভাবতেই খারাপ লাগে।'
রিশভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলদের সরাসরি জবাব দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'আমি সরকারি চাকরিতে নেই, কিন্তু আমার পরিবারের জন্য আমি কঠোর পরিশ্রম করি। সোনালি আমাকে তখনই ভালোবেসেছে, যখন আমার কিছুই ছিল না। মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।'
এই নব দম্পতি সমাজে 'রেসিজম' কিংবা বর্ণবৈষম্যেরবিষয়টিও তুলে ধরেছেন। রিশভ বলেছেন, 'ভারতের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষ্ণ বর্ণের, কিন্তু মানসিকভাবে সবার কাছে ফর্সা হওয়াটাই 'ভালো' বলে ধরা হয়। এই ধারণা বদলাতে হবে।'
সোনালি যোগ করেন, 'ফর্সা ত্বক মানে ভালো মানুষ—এটা নয়। তাই ত্বকের রঙের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করা কখনই উচিত নয়।'
দম্পতির বিশ্বাস, যে বা যারা, তাদের বিয়ের ছবি কিংবা ভিডিও দেখে ট্রোল করেছেন, তারা ১১ বছরের সম্পর্কের দৃঢ়তা বোঝে না। রিশভ বলেন, 'আমরা একে অপরের জন্য আছি, এবং সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা খুশি, তাই বাইরের মানুষের বিচার আমাদের প্রভাবিত করতে পারবে না।'
