ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যে বাগযুদ্ধ হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে আলোচনার সময় দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ‘নেহরু-গান্ধী পরিবার বংশপরম্পরায় ভোটচোর’ বলে মন্তব্য করেন। প্রতিবাদে বিরোধী দল ওয়াকআউট করেছে।
অমিত শাহ বলেন, ‘আপনারা জয়ী হলে ভোটার তালিকা ঠিক থাকে; নতুন পোশাক পরে শপথ নেন। কিন্তু যখন হেরে যান, তখনই বলেন ভোটার তালিকায় সমস্যা আছে–এই দ্বিমুখী মানসিকতা চলবে না। বিরোধীদলীয় নেতা ভোট চুরির কথা বলেন অথচ কিছু পরিবার (নেহরু-গান্ধী পরিবার) আছে যারা বংশপরম্পরায় ভোটচোর।’
প্রতিবাদ জানিয়ে রাহুল গান্ধী জানতে চান, কেন নির্বাচন কমিশনারদের দপ্তরে নেওয়া সিদ্ধান্তের জন্য দায়মুক্তি দেয়া হলো। এ বিষয়ে অমিত শাহ প্রথমে জবাব দিচ্ছেন না কেন? তিনি এ বিষয়ে অমিত শাহকে বিতর্কের চ্যালেঞ্জ দেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয়দের এইচ-১বি ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত
সে চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে গিয়ে গান্ধী-নেহরু পরিবারকে নিশানা বানান অমিত শাহ। বলেন, স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনই ছিল প্রথম ‘ভোট চুরির’ উদাহরণ। তার দাবি, প্রদেশগুলোর কংগ্রেস কমিটির প্রধানদের প্রত্যেকের একটি করে ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তখন ২৮ ভোট পড়েছিল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পক্ষে, আর মাত্র দুটি ভোট জওহরলাল নেহরুর পক্ষে। তবু প্রধানমন্ত্রী হন নেহরু।
এরপর ইন্দিরা গান্ধীর রায়বেরেলির জয় নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ আনেন অমিত শাহ। অভিযোগ করেন, ‘ভোট চুরি’ আড়াল করতেই ইন্দিরা গান্ধী তখন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করা যাবে না–এমন আইন প্রণয়ন করেন।
রাহুল গান্ধীর মা সাবেক কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকেও ছাড় দেননি অমিত শাহ। অভিযোগ করে বলেন, তিনি নাগরিক হওয়ার আগেই ভোট দিয়েছিলেন। অমিত শাহর এই দাবির প্রতিবাদ জানিয়ে কংগ্রেস সাংসদরা বলেন, অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।
লোকসভায় তীব্র বাগবিতণ্ডার মাঝে অমিত শাহ বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় রাখা নিশ্চিত করতেই কংগ্রেস ও বিরোধী দল ইভিএম ব্যবহার এবং এসআইআর নিয়ে আপত্তি তুলছে। তার এই মন্তব্যের পর বিরোধী দল ওয়াকআউট করে।
