বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দ এবং তার স্ত্রী সুনীতা আহুজা সবসময়ই খোলামেলা স্বভাবের। দাম্পত্যের উত্থান–পতন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত চ্যালেঞ্জ সবই তারা প্রকাশ্যে বলেছেন। তবে এবার সুনীতা শেয়ার করলেন তার জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় মাত্র তিন মাস বয়সে অকালপ্রসূত কন্যাকে কোলে হারানোর স্মৃতি।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সুনীতাকে জিজ্ঞেস করা হলে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি ছিল, তিনি এক মুহূর্তও দেরি না করে বলেন, আমার দ্বিতীয় মেয়ে সময়ের আগেই জন্মেছিল, মাত্র আট মাসে। ও তিন মাস বেঁচে ছিল আর পুরোটা সময় আমার কোলেই থাকতো। কিন্তু ওর ফুসফুস ঠিকভাবে গঠিত হয়নি। এক রাতে হঠাৎ শ্বাস নিতে পারছিল না, এক পর্যায় আমার কোলেই প্রাণটা বেরিয়ে যায়। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর মুহূর্ত। আজ আমার দুই মেয়ে আর এক ছেলে থাকতে পারত।
তিনি আরও জানান, প্রথম সন্তান সহজে জন্মানোর কারণে দ্বিতীয়বার ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা ছিল না। তখন তিনি স্বামী গোবিন্দর সঙ্গে প্রচুর ভ্রমণ করতেন, ভারী জিনিস তুলতেন যা যে বিপদ ডেকে আনতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। এই কঠিন সময় পার হওয়ার পর তাদের ঘরে আসে ছেলে যশবর্ধন। কিন্তু তার জন্মও ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। প্রসবের সময় সুনীতার ওজন ছিল ১০০ কেজি, আর তিনি আশঙ্কায় ছিলেন নিজের জীবনের জন্যও। সেই দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন গোবিন্দাও।
সন্তানের মৃত্যু আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায়। সুনীতা বলেন, যদি সে বেঁচে থাকত, আজ আমি তিন সন্তানের মা হতাম। তার এই খোলামেলা অভিজ্ঞতা বহু মায়েরই না বলা যন্ত্রণার সঙ্গে মিল খুঁজে দেয়।
প্রসঙ্গত, গোবিন্দ ও সুনীতা আহুজার ১৯৮৭ সালের ১১ মার্চ বিয়ে করেন। বিয়ের আগে থেকেই তাদের প্রেম ছিল পরে পরিবারের সম্মতিতে তাদের গোবিন্দ ও সুনীতার বিয়ে হয়। প্রায় সময় তারা তাদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনায় আসেন। চলতি বছরে একাধিকবার তাদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল।
