চোখ ধাঁধানো রূপ আর দক্ষ অভিনয় গুণে কোটি ভক্তের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন নায়িকা দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। ‘শাস্তি’, ‘সুভা’ তার জ্বলন্ত প্রমাণ। ‘মনের মাঝে তুমি’, ‘হৃদয়ে কথা’ সিনেমার মাধ্যমে অসংখ্য অনুরাগীর মনে দোলা দিয়েছেন; তার ভুবন রাঙানো হাসির কথাই বা কে ভুলেছেন! আবার ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিল না’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও জিতে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
তবে দুঃখজনক ব্যাপার হলো—পূর্ণিমা এখন আর বড়পর্দায় নিয়মিত নন। বহু বছর ধরে তাকে আর এ মাধ্যমে দেখা যায় না। পূর্ণিমা কেন রুপালি পর্দায় নেই, এই প্রশ্ন তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগীরও। কিন্তু এ বিষয়ে পূর্ণিমার কী ভাষ্য?
ভক্তদের চাওয়া পূরণ করে বড়পর্দায় ফিরতে চান পূর্ণিমা। জটিলতা ব্যাটে-বলে না মেলা। এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি তো সিনেমায় অভিনয় করতে চাই। আমি আজ যা কিছু, সবই এই অঙ্গন থেকে পেয়েছি। কথা হচ্ছে, নতুন সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু কনভিন্স হওয়ার মতো তেমন কোনো গল্প পাচ্ছি না।”
কেমন গল্পের সিনেমায় অভিনয় করতে চান? পূর্ণিমার পরিষ্কার জবাব, “সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমার প্রথম যে বিষয়টি কাজ করে, তা হচ্ছে—পরিচালকের ভাবনাচিন্তা ও সুন্দর একটি গল্প। গল্পে আমার চরিত্র কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি, আমার এখনকার অবস্থান চিন্তা করে গল্প তৈরি হতে হবে।”
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে উপমহাদেশীয় সিনেমার প্রসঙ্গ টানেন পূর্ণিমা। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমাদের আগে উপমহাদেশীয় সিনেমায় যেসব নায়িকা কাজ করেছেন, তাদের অনেকে এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। প্রযোজক-পরিচালকেরা তাদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করছেন। আমাকে নিয়েও পরিচালকদের সময়োপযোগীভাবে ভাবতে হবে।”
রোমান্টিক-ঝলমলে নায়িকা রূপে পূর্ণিমাকে দেখে অভ্যস্ত ভক্ত-অনুরাগীরা। কিন্তু এই অভিনেত্রীর এখন খল চরিত্রও পছন্দ। তার ভাষায়—“আমাকে সবাই রোমান্টিক লুক ও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আমাকে এর বিপরীতে দেখলে খুব ভালো হয়। আমার খুব ইচ্ছে নেগেটিভ চরিত্র বা ভিলেন টাইপের চরিত্রে অভিনয় করার। সিনেমাটি দেখে যেন ওই চরিত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা তৈরি হয়। আজ পর্যন্ত আমাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র কেউ চিন্তাও করেনি।