পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন দেশের সাংবাদিকরা। সাংবাদিক নির্যাতনের পরিসংখ্যান দেখলে যে কাউকে আঁতকে উঠতে হয়। ভয়-ভীতি, হুমকি-ধামকি, মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমা, শারীরিক নির্যাতন, গুম এমনকি হত্যাকাণ্ড—নির্যাতনের কোনো ধরনই বাদ যাচ্ছে না সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে।
রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর ও মফস্বল—দেশের সর্বত্রই চলছে এই নির্যাতন। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কখনো লোকচক্ষুর অন্তরালে তুলে নিয়ে নির্যাতন, আবার কখনো প্রকাশ্য দিবালোকে জনসমক্ষে মারধরের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা।
দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে একের পর এক সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও এসবের সুষ্ঠু বিচার নেই। হত্যা ও নির্যাতনের অসংখ্য মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকছে, বিচারের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই সাংবাদিক নির্যাতন আজ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
যে কোনো স্থানীয় বা জাতীয় দুর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন সাংবাদিকরা। অথচ এমন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হওয়া সত্ত্বেও সাংবাদিকদের জন্য নেই কোনো ঝুঁকিভাতা বা কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা। তারপরও পেশাগত দায়িত্বের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ সাংবাদিকরা নিরলসভাবে সত্য তুলে ধরতে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত তিন মাসে যথাক্রমে ৩০, ১০ ও ৪০ জন—মোট ৮০ জন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এছাড়া সংগঠনটির আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল ২০২৪-২৫ সালেই শারীরিক নির্যাতন, হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানিসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ১ হাজার ৯০ জন সাংবাদিক।
প্রতিদিন গণমাধ্যমে এসব নির্যাতনের খবর প্রকাশ পেলেও কার্যকর প্রতিকার নেই। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায় সরকারের ভূমিকা অনেকাংশেই নীরব। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি।
