মাঠজুড়ে আমন ধানের সবুজের বদলে এখন যেন শঙ্কার ছাপ। কোথাও মাটিতে ফাটল, কোথাও শুকিয়ে যাচ্ছে জমির উপরিভাগ। ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে রোপণ করা ধান পানির অভাবে ধুঁকছে। অথচ প্রায় ১২৫ একর জমির সেচের জন্য ভরসা মাত্র একটি গভীর নলকূপ। ফলে প্রয়োজনের সময়ে সেচের পানি না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। একদিকে আকাশের বৃষ্টির অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অপ্রতুল সেচব্যবস্থা, দুইয়ে মিলে আমন ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে দিনাজপুরের যোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন করেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরজাহানপুর গ্রামের ২৫ থেকে ৩০ জন কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, ১২৫ একর জমির বিপরীতে মাত্র একটি গভীর নলকূপ থাকায় সবাই প্রয়োজনের সময়ে সেচের পানি পাচ্ছেন না। এই সময়ে আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কুশি গজানোর জন্য জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন। কিন্তু সেচের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক সময়মতো জমিতে পানি দিতে পারছেন না। এতে কোথাও কোথাও জমির মাটি শুকিয়ে ফাটল ধরেছে। সময়মতো পানি না পেলে ফলন কমার পাশাপাশি চাষাবাদে করা পুরো বিনিয়োগও লোকসানে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
ধানের গোড়া শুকিয়ে যাওয়ায় ফলন নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কৃষকদের ভাষ্য, এটি কোনো এক মৌসুমের সমস্যা নয়; প্রতিবছরই সেচের পানির সংকটে পড়তে হয় তাদের। তাই সাময়িকভাবে পানি সরবরাহ নয়, বরং জমির পরিমাণ অনুযায়ী স্থায়ী ও পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষক সামছুল বলেন, ‘১২৫ একর জমির জন্য এখানে মাত্র একটি নলকূপ বসানো হয়েছে। এই একটি নলকূপ দিয়ে সবাইকে সময়মতো পানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেউ পানি পাচ্ছেন, আবার কেউ পাচ্ছেন না। পানির অভাবে জমিতে ফাটল ধরেছে। বিঘাপ্রতি বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ এখন পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সময়মতো পানি দিতে না পারলে সেই বিনিয়োগই লোকসানে পরিণত হবে।’
আরেক কৃষক সুরুজ মিয়া বলেন, ‘এই জমির ফসল দিয়েই আমাদের সারা বছরের সংসার চলে। এখন যদি দ্রুত আরেকটি গভীর নলকূপ বসানো না হয়, তাহলে ধানের ফলন নিয়ে বড় ধরনের বিপদে পড়তে হবে। জমির দূরত্ব ও প্রয়োজন বিবেচনা করে দ্রুত এখানে আরেকটি নলকূপ স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।’
কৃষকদের ভাষ্য, প্রতি বছর সেচের পানির সংকট তাদের ভোগান্তিতে ফেলে। এবারও দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিপুল পরিমাণ জমির ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। সময়মতো পানি না পেলে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, চাষাবাদে করা পুরো বিনিয়োগও ঝুঁকিতে পড়বে। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফসল ফলানোর পর যদি শুধু পানির অভাবে সেই ফসল মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে এই দায় নেবে কে?
এ ব্যাপারে কথা হলে বিএডিসি- এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব রাশেদুজ্জামান সুজন বলেন, নুরজাহানপুরের বিষয়টি আমরা জানি ও অবগত আছি। আমরা আবার বিষয়টি সুবিবেচনাপূর্বক পূনরায় তদন্ত করে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হবো।
মানববন্ধন থেকে কৃষকরা দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপন, বিদ্যমান সেচব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষকদের সময়মতো সেচের পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মো: রাফছানজানী শুভ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
