মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটায় বিচারাধীন মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় জোরপূর্বক পরিমাপ করে বসত ভিটের জায়গা দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার সকাল ১১ টার মহেশখালী পৌরসভার সরকার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী রতন সরকার অভিযোগ করেন, মহেশখালীতে গোরকঘাটা মৌজার সরকার পাড়ায় বিএস খতিয়ান ৩৪ এবং ৫৪২ ও ৫৪৩ নম্বর দাগের ৬২ শতক জায়গার মালিকানার ভাগ-বন্টন নিয়ে ওয়ারিশদারদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে গত ২০১৬ সালে আমাদের প্রতিপক্ষ প্রাণ কৃষ্ণ সরকার গং আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি এখন আপীল পর্যায়ে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মালিকানা নিয়ে বিরোধীয় ওই জায়গা যথাপোযুক্ত ভাগ-বন্টনের জন্য আদালতের আদেশ চেয়ে স্বপন সরকার গং গত ২০২১ সালে একটি অপর-৯৩৭ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি এখন শুনানী পর্যায়ে রয়েছে।
অভিযোগে এ ভুক্তভোগী আরও বলেন, ভাগ-বন্টনের জন্য দায়ের করা ওই মামলায় বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে মামলার চুড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। যা এখনো বলবৎ রয়েছে। কিন্তু ওয়ারিশদারদের একপক্ষ পুইক্ক্যা সরকার গং বিবাদীদের লোভে বশবতী হয়ে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বিরোধীয় ওই জায়গা জোরপূর্বক ভোগদখলের অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মহেশখালী উপেজলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের কর্মচারী হেফাজত উল্লাহ ( পুইক্ক্যা সরকারের ধর্মান্তরিত মেয়ের জামাতা ) বাদী স্বপন সরকারের বড় ছেলে রনি সরকার হুমকি-ধমকী প্রদান করে। এসময় শনিবার সকালে সার্ভেয়ার দিয়ে বিরোধীয় জায়গা পরিমাপ করবে জানিয়ে এই দিন বাসায় উপস্থিত থাকার জন্য হুমকী দেয়। মূলত জেলা হিসাব রক্ষন অফিসের কর্মচারী মধু সরকারের ভগ্নিপতি হেফাজত উল্লাহর ইন্ধন ও ছত্রছায়ায় মৃদুল সরকার, বিপ্লব সরকার, প্রণব সরকার ও উজ্জ্বল সরকার এই অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শনিবার সকালে ইউএনও অফিসের কর্মচারী হেফাজত উল্লাহর যোগসাজশে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সার্ভেয়ার দিয়ে বিরোধীয় ওই জায়গা পরিমাপের চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে উপ্তক্ত পরিস্থিতির এক পর্যায়ে জায়গা পরিমাপকরা ফিরে যায়।
এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে জানিয়ে ভুক্তভোগী রতন সরকার বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে জোরপূর্বক জায়গা দখলের নানা অপচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে যে কোন সময় বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা সংঘটিত হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে মহেশখালী ইউএনও অফিসের কর্মচারী হেফাজত উল্লাহর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে অস্বীকার করে বলেন, ঘটনায় তার কোন ধরণের সংশ্লিষ্টতা নেই। রনিকে হুমকী দেওয়ার বিষয়টিও সত্য নয়।
কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ
