কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রায় ৬৬টি গাছ কেটে ফেলা এবং একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মো. করিম উদ্দিন খোকা নামে এক ব্যক্তি আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের তালুক কানুয়া মৌজায় বাদীর ক্রয়কৃত ২৪ শতক জমি রয়েছে। জমিটির মালিকানা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা প্রায় ৫০টি সুপারি গাছ, চারটি ইউক্যালিপটাস, দুটি আমগাছ ও ১০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় গাছ কাটতে বাধা দিলে বাদীর ভাই আশরাফুল ইসলাম, ভাতিজা রাহুল ও ভাতিজি আকতারা খাতুনকে মারধর করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে বাদীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মেয়ে খুকুমনিকেও মারধর করা হয়। এতে একই পরিবারের পাঁচ সদস্য শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওই জমিতে প্রবেশ না করতে ভয়ভীতি দেখান। একই সঙ্গে সুযোগ পেলে মারধর করে হাত-পা ভেঙে দেওয়া এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সমাধান না হওয়ায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান বাদী।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রাশেদ বলেন, “অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
