আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন (কপ৩১)-কে সামনে রেখে রাজধানীর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন (ইআরপিডিএফ), সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট Foundation (ডিআরডিএফ)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে নীতি-নির্ধারক, পরিবেশবিদ, গবেষক ও তরুণ উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম বলেন, পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও ক্লিন এনার্জি উদ্যোগকে ডিএসসিসি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগে নীতিগত সহায়তা প্রদান করা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা জরুরি।
ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিজ্ঞানসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তিতে উত্তরণ ঘটাতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর-এর উপ-পরিচালক রউফা খানম বলেন, সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর করতে সরকারি তহবিল এবং কপ জলবায়ু অর্থায়নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ইআরপিডিএফ বাংলাদেশের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু নীতি নির্ধারণে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়ে মাঠপর্যায়ে তাদের কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।
মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মীর মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ রকিব, মাকসুদ হোসেন, রুবাইয়া নাসরিন সেঁজুতি, মাহবুব সুমন এবং আল-আমিন প্রান্ত। সম্মেলন শেষে দেশজুড়ে আগত দুই শতাধিক তরুণ ও পরিবেশকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।