গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬ টায় উপজেলা জামায়াতের (ভার:) সেক্রেটারি মো: সামিউল ইসলাম সভাপতিত্বে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে হলরুমে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । এসময় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামী নায়েবে আমীর অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মঞ্জু,পৌর: জামায়াতের আমির, মোহাম্মদ একরামুল হক, দহবন্দ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির, মো: আব্দুল গনি।
এসময় শহীদদের স্মরণে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান বলেন,একটি বাস যদি চলে সেক্ষেত্রে যেমন বাসের ড্রাইভার ও হেলপারের উপর যাত্রীদের নিরাপত্তা নির্ভর করে ঠিক তেমনি একটি দেশের নিরাপত্তা সেদেশের বুদ্ধিজীবিদের হাতে নির্ভর করে। আমরা স্বাধীন হয়েছি, তারপর আমরা স্বৈরাচারের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচার এসেছে তারপর ফ্যাসিস্ট এসেছে। আমরা এখনো সত্যিকারের স্বাধীনতা পায়নি। স্বাধীনতা পাইনি বলেই আজ ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা করা হয়। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আজ আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি হানাহানি করতেই ব্যস্ত। আমাদের এই দেশকে যে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সবাই মিলে সেদিকে আমারা একতাবদ্ধ হতে পারছি না। আপনারা যদি মালয়েশিয়ার দিকে তাকান তারা ১৯৫৭ সালের স্বাধীন হয় আর আমরা ১৯৭১ সালে। মাঝখানে ব্যবধান দেখেন মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু উন্নয়নের ব্যবধান দেখেন সেখানে অনেক ব্যবধান। এটা হয়েছে একমাত্র আমাদের মধ্যে লিডারশিপের অভাব, আমাদের মধ্যে প্রকৃত দেশপ্রেমিকের অভাব ও একতার অভাব। আমাদের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকবে, কথার ভিন্নতা থাকবে, পথের ভিন্নতা থাকবে, কিন্তু আমাদের দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্বের স্বার্থে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতে আমির অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে শতাধিক বুদ্ধিজীবীকে টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছিল। এটার কারণ ছিল যে, তাদের স্বাধীনতা দিতেই হবে কিন্ত এই দেশ যেন গড়ে ওঠতে না পারে। এটার বাস্তবতার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় অনেক দেশ আমাদের পরে স্বাধীনতা অর্জন করেও আমাদের থেকে সমৃদ্ধ। আমরা যদি আজকে থেকেও দেশকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করি তাহলেও সম্ভব। এই প্রতিজ্ঞাই হোক আজকের বুদ্ধিজীবী দিবসের অঙ্গীকার
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো : সামিউল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের টার্গেট কিলিংয়ের মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালায় আমাদের অগ্রযাত্রাকে থামানোর জন্য। এর ফলে আমরা অসংখ্য শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার ও বিভিন্ন পেশার বুদ্ধিজীবীদের হারাই। বাঙালি জাতি বার বার হোচট খেয়েছে কেননা দেশকে যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে তাদের হত্যা করা হয়েছে। তারপরও কিন্তু তারা আামাদের বিজয়কে এবং অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। আমরা যদি ২০২৫ সালের ১৪ই ডিসেম্বরের দিকে লক্ষ্য করি তাহলে দেখা যায় আমরা একটু হলেও অগ্রসর হয়েছি অর্থাৎ আমরা সেসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমরা আশাবাদ ব্যক্ত করি আমাদের এই প্রজন্ম তাদের রক্তকে বৃথা যেতে দিবে না এবং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
মো: শাহিন মিয়া( গাইবান্ধা) সুন্দরগঞ্জ
