বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরার খবরে উজ্জীবিত দলটির নেতা-কর্মীরা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শুধু দল নয়, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও তার ফিরে আসা বড় টার্নিং পয়েন্ট হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, দেশের রাজনীতির কেন্দ্রের সংকট দূর হতে পারে তার ফিরে আসার মধ্যদিয়ে।
ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রোষানলে পড়ে ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন তারেক রহমান। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি। ২০১৮ সালে তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর, তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। তখন থেকেই তিনি বিদেশে থেকে দল পরিচালনা করছেন, আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে গেছেন, ভার্চুয়ালি সভা ও সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে আশা করছিলেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নভেম্বরের শেষ দিকে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি ও তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতির পর, অনেকে ভেবেছিলেন তারেক রহমান এবার ফিরছেন। কিন্তু ওই সময় ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে তিনি বলেছিলেন, মায়ের অসুস্থতার মধ্যেও তার দেশে ফেরার বিষয়ে 'সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়'।
যদিও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল হলে, তিনি দেশে ফিরবেন- এমন আভাস দিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা।
সবশেষ শুক্রবার দলের মহাসচিব সুনির্দিষ্ট করে জানান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফিরছেন ২৫ ডিসেম্বর।
দেশের বাইরে থেকেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে যারা এতদিন রাজনীতির মাঠে সরব থেকেছেন তাদের কাছে তার ফিরে আসা একটি বড় বার্তা বলেও মনে করেন বিএনপি নেতারা।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনীতির এই বরপুত্রকে বরণ করতে নানা আঙ্গিকে প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে তার নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখছেন তারা।
ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান মনে করছেন, দূরে থেকেও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিয়ে তারেক রহমান রাজনীতিতে তার অবস্থানকে সুসংহত করেছেন। তার ফিরে আসায় বিএনপির রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আরও কেন্দ্রীভূত হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
দূরে থেকে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের যে বার্তা তারেক রহমান এতোদিন তার দলের নেতা-কর্মীদের দিয়েছেন, তার ফিরে আসার মধ্যদিয়ে স্পষ্ট হবে তিনি তা কতটা বাস্তবায়ন করতে পারেন।
-10141-1765783535.jpg)