পার্বত্য চট্টগ্রামের সাজেক এলাকায় ইউপিডিএফ কর্তৃক বনবিভাগের সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ ও পর্যটকদের চলাচল ব্যাহত করার মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সাজেকের মাসালং সেনা ক্যাম্পের আওতাধীন দক্ষিণ একুজ্জাছড়ি পাড়ার ১৪ মাইল এলাকায় ইউপিডিএফের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ বনবিভাগের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে আদালতের রায় উপেক্ষা করে কথিত একটি স্কুল নির্মাণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যথাযথ সরকারি বিধি অনুসরণ করে গত ১৪ ডিসেম্বর বনবিভাগ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ওই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।
এ ঘটনায় কথিত স্কুল নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে অপপ্রচার চালায় ইউপিডিএফ। এরই ধারাবাহিকতায় ইউপিডিএফ নেতা সচিব চাকমার নেতৃত্বে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মাসালং বাজার এলাকায় অবস্থিত বনবিভাগের অফিসে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে আশরাফুল নামে এক বনরক্ষী গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে বাঘাইহাট–সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে ও গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করা হয়। ফলে সাজেকে গমনাগমনরত অসংখ্য পর্যটক সড়কে আটকা পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে মাসালং সেনা ক্যাম্প ও বাঘাইহাট জোন সদর থেকে সেনাবাহিনীর একাধিক টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সেনাসদস্যরা সড়কের বাধা অপসারণ করে পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণের মাঝে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে এবং এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামকে উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তাদের নিজস্ব কিছু প্ল্যাটফর্মে মনগড়া ও ভিত্তিহীন সংবাদ ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চলছে।
অপরদিকে, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা ও পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে বাঘাইহাট জোন। বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাঘাইহাট জোন সূত্রে আরও জানানো হয়, অবৈধ সংগঠনের মাধ্যমে আইন বহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও সন্ত্রাস দমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বাঘাইহাট জোনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা সহায়তা প্রদান, দুস্থদের মাঝে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ নানাবিধ সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি সাজেকের দুর্গম ভূয়াছড়ি এলাকায় স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে কষ্টসাধ্য উঁচু পাহাড়ি রাস্তায় সিঁড়ি নির্মাণ, ঘর নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।
