শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

২৭ বছর আগে হায়দারাবাদ ছাড়েন সিডনির বন্দুকধারী সাজিদ

২৭ বছর আগে হায়দারাবাদ ছাড়েন সিডনির বন্দুকধারী সাজিদ

২৭ বছর আগে হায়দারাবাদ ছাড়েন সিডনির বন্দুকধারী সাজিদ

সিডনির বন্ডি বিচে রোববার ইহুদি হানুক্কা উৎসবে বন্দুক হামলায় ১৫ জনের মৃত্যুর ঘটনার পেছনে থাকা দুই ব্যক্তির মধ্যে একজন ছিলেন ভারতের হায়দারাবাদের বাসিন্দা। প্রায় তিন দশক আগে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দিলেও ৫০ বছর বয়সী এই সন্দেহভাজন সাজিদ আকরাম সব সময় ভারতের পাসপোর্ট বহন করতেন।

সাজিদ আকরামকে হামলার সময় পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। তাঁর পুত্র, ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরামও হামলায় অংশ নিয়েছেন এবং সিডনি কর্তৃপক্ষের দাবি তিনি এখনও বেঁচে আছেন এবং পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অস্ট্রেলিয়ান তদন্তকারীরা এই হামলাকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সন্ত্রাসী কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তেলেঙ্গানার ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ জানিয়েছেন, ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম হায়দারাবাদের আদি বাসিন্দা এবং ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে প্রথমে ছাত্র ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। পুলিশ জানায়, তিনি হায়দারাবাদে ব্যাচেলর অফ কমার্স ডিগ্রি শেষ করার পরই চাকরির সন্ধানে ভারত ত্যাগ করেন।

আকরাম প্রায় ২৭ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছিলেন এবং এই সময়ে হায়দারাবাদে তাঁর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সীমিত ছিল। তেলেঙ্গানার ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, আকরামের কথিত উগ্রপন্থার সঙ্গে ভারতের কোনো অপারেশনাল বা আদর্শগত সংযোগের কোনো ইঙ্গিত নেই।

আকরাম শেষবার ২০২২ সালে হায়দারাবাদে গিয়েছিলেন। তিনি ভারতীয় পাসপোর্টধারী ছিলেন, যদিও তাঁর সন্তানরা- এক ছেলে ও এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেছে এবং তারা অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, পারিবারিক বিবাদের কারণে বহু বছর আগে হায়দারাবাদের বর্ধিত পরিবারের সঙ্গে আকরামের সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। হামলার অনেক আগেই আত্মীয়-স্বজনরা তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে। পুলিশ জানায়, ২০১৭ সালে তাঁর বাবার মৃত্যুর পর আকরাম তাঁর জানাজার নামাজেও যোগ দেননি।

অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পর আকরাম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত নারী ভেনেরা গ্রোসোকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে- নাভিদ এবং এক মেয়ে। পরিবারটি অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।

রোববার সিডনির বন্ডি বিচে হানুক্কা উদযাপনের সময় এই ব্যাপক বন্দুক হামলা ঘটে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম পরিচিত এই জনবহুল স্থানে পরিবারের সদস্য এবং সম্প্রদায়ের মানুষজন জড়ো হওয়ার সময় বন্দুকের গুলিতে ১৫ জন নিহত হন।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট বলেন, এই হামলাটি ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত এক সন্ত্রাসী হামলা। ব্যারেট আরও বলেন, এই সন্দেহভাজন খুনিরা, যারা নাকি তাদের আক্রমণ সমন্বয় করার ক্ষেত্রে কঠোর ছিল, তাদের শিকারদের বয়স বা সক্ষমতার প্রতি কোনো খেয়াল ছিল না। মনে হচ্ছে অভিযুক্ত খুনিরা কেবল মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টায় আগ্রহী ছিল।

হামলাকারীদের ব্যবহার করা একটি গাড়ি, যা নাভিদের নামে নথিভুক্ত ছিল, সেটি পুলিশ জব্দ করেছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গাড়ির ভেতরে তারা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস এবং তথাকথিত ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি হাতে তৈরি পতাকা খুঁজে পেয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ হামলার এক মাস আগে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তির ফিলিপাইন ভ্রমণের বিষয়েও তদন্ত করছে।

বিবিসিকে ফিলিপাইনের ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন নিশ্চিত করেছে, সাজিদ আকরাম এবং তাঁর ছেলে ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে প্রবেশ করেন এবং ২৮ নভেম্বর প্রস্থান করেন। বিবিসি জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভালের মতে, সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভ্রমণ করেছিলেন, আর নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট ব্যবহার করেছিলেন।

তাঁরা দক্ষিণ ফিলিপাইনের দাভাও শহরকে তাদের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে ঘোষণা করেন এবং সিডনিতে ফিরে যাওয়ার টিকিট বুক করেছিলেন। দাভাও হল মিন্দানাও দ্বীপের একটি বড় শহর, যেখানে অতীতে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো দরিদ্র এলাকাগুলোতে কাজ করত। আবু সায়াফের মতো গোষ্ঠীগুলো অতীতে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিল এবং স্বল্প সংখ্যক বিদেশি জঙ্গিকে আশ্রয় দিত।

তবে, ফিলিপাইনের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি যে, দুই ব্যক্তি সেখানে থাকার সময় সামরিক-শৈলীর প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন কিনা। ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, কয়েক দশকের সামরিক অভিযানের ফলে এই অঞ্চলের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সম্প্রতি সেখানে বিদেশি জঙ্গিদের কার্যকলাপের কোনো ইঙ্গিত নেই।