ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দাখিল করা চার্জশিট আমলে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া এই আদেশে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আইনের দৃষ্টিতে এই চার্জশিটের ভিত্তিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। এই রায়ের পরবুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমতাসীন বিজেপির কঠোর সমালোচনা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
তিনি এই রায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে চড় মারার মতো বলে বর্ণনা করেন এবং ভবিষ্যতে জনগণকে হয়রানি না করার শর্তে তাদের পদত্যাগ দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে অভিযোগ করেন যে, গান্ধী পরিবারকে হয়রানি করতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলাটি করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ইডি-র এই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় গান্ধী পরিবারের সদস্য ছাড়াও সুমন দুবে, সাম পিত্রোদা, ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডোটেক্স মার্কানডিসে ও সুনীল ভাণ্ডারীর নাম রয়েছে। তবে আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে এই মামলার আইনি ভিত্তি বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্র নিয়ে ২০১৩ সালে প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হয়।
অভিযোগ ছিল যে, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড নামক যে সংস্থার হাতে সংবাদপত্রটির মালিকানা ছিল, বাজারে তাদের মোট ৯০ কোটি টাকা দেনা ছিল, যার বেশিরভাগটাই ছিল কংগ্রেসের কাছ থেকে নেওয়া। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে আদালতের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্ত কংগ্রেস শিবিরের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
