দিনাজপুরের বিরামপুরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করতে উপজেলা চত্বরে কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ আখতারুজ্জামান চলতি বোরো মৌসুমে ১টি পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের ৪০ জন বোরো চাষিদের মাঝে প্রদর্শণীর বিভিন্ন আধুনিক জাতের ব্রি- ধান বীজ ও সার বিতরণ করেন।
এ সময় কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কমল কৃষ্ণ রায় কম খরচে উচ্চ ফলন পেতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, কৃষকেরা যদি আদর্শ বীজতলায় সঠিক পরিমাণে বীজ বপন করেন তাহলে চারা সুস্থ থাকবে ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। ধান রোপনের সময় যদি কৃষকেরা ধান ক্ষেতে বিঘা প্রতি ৮ থেকে১০টি ডাল পুতে (পাচিং) দেয় তাহলে সেই ডালে পাখি বসে মাজরা পোকার মথ খেযে পোকা নিধন করবে। এতে করে পোকার আক্রমণ থেকে কৃষকের ফসর রক্ষা পাবে। এছাড়া তিনি বোরো ধান লাইন ও লোগো করে রোপনের জন্য বোরো চাষিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ পদ্ধতিতে বিঘা প্রতি কৃষকদের দুই মণ ধান ফলন বেশি হবে ও সহজে কারেন্ট পোকার আক্রমণ হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন। তিনি আরো বলেন ধান রোপনের প্রথম চল্লিশ দিন জমিতে কোন কীটনাশক স্প্রে না করতে পরামর্শ দেন । জমিতে স্প্রৈ না করলে উপকারি পোকা বৃদ্ধি পাবে ফলে ক্ষতিকর পোকামাকড় বংশবৃদ্ধি করতে পারবেনা। এতে কৃষকদের কিটনাশক সহ স্প্রে খরচ ব্যাপকভাবে কমে আসবে।
কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় বোরো চাষে পরিচর্যা ও ফলন বৃদ্ধিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে উপস্থিত প্রদর্শণী চাষিদের মাটির সুস্বাস্থ বজায় রাখতে জমিতে ট্রাইকো ডারমাসহ অন্যান্য জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করে বেশি ফলন পেতে পরামর্শ দেন।
চলতি বোরো মৌসুমে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-ধান ১০২, সুগন্ধি জাত ব্রি-ধান ১০৪, জনপ্রিয় ব্রি-ধান ৮৯ জাতসহ অতি উচ্চ ফলনশীল ব্রি-ধান ১০৮ জাতের ভিত্তি বীজধান বিতরণ হয়েছে। কৃষকদের মাঝে ভিত্তি বীজ বিতরণ হওয়ায় কৃষকরা প্রথমবার চাষের পর ও পরবর্তী দুইবার বীজ হিসেবে জমিতে চাষ করতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
