অষ্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডি বিচে ভয়াবহ বন্দুক হামলার সময় নিজের জীবন বাজি রেখে ঘাতককে নিরস্ত্র করা সেই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। ৪৪ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদ নামক ওই ব্যক্তি সিরিয়ার প্রাক্তন পুলিশ কর্মী ছিলেন। তার অসীম সাহসিকতার কারণেই সেদিন, আরও বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। সেই ঘটনায় তিনি নিজেও গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
বন্ডি বিচে হানুক্কা উৎসবে যখন সাজিদ আকরাম ও নাভিদ আকরাম এলোপাথাড়ি গুলি চালাচ্ছিল, আহমেদ তখন বন্ধুর সঙ্গে কফি খাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ভিডিওতে দেখা যায়, আহমেদ দুটি গাড়ির মাঝখানে আশ্রয় নেন। এরপর জীবনের তোয়াক্কা না করে পেছন থেকে এক বন্দুকধারীকে জাপটে ধরেন এবং তার হাত থেকে বন্দুক কেড়ে নিয়ে তার দিকেই তাক করেন।
এই ধস্তাধস্তির সময় অপর বন্দুকধারী নাভিদ উপর থেকে গুলি চালালে আহমেদের বাঁ হাতে পাঁচটি গুলি লাগে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার অন্তত আরও ছয় মাস সময় লাগবে সুস্থ হতে।
সিরীয় শিকড় ও অতীত অভিজ্ঞতা
আহমেদ আল আহমেদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন, ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি দেওয়ার আগে তিনি সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশের নায়রাব শহরে বসবাস করতেন। সেখানে তিনি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীতে কাজ করতেন। তার বাবা মোহাম্মদ ফাতেহ আল আহমেদ গর্বের সঙ্গে বলেন, আমার ছেলে অস্ট্রেলিয়ার হিরো, সে সব সময়ই সাহসী ছিল। বর্তমানে আহমেদ সিডনিতে একটি তামাকের দোকান চালান এবং তার তিন ও ছয় বছর বয়সী দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে প্রশংসা ও অনুদান
আহমেদ আল আহমেদের এই বীরত্বগাথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ হাসপাতালে গিয়ে আহমেদের সঙ্গে দেখা করে তাকে ‘অস্ট্রেলিয়ার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টও আহমেদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন।
তার চিকিৎসার জন্য সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসেছেন। মাত্র কয়েক দিনে ৪০ হাজার মানুষের অনুদানে ২.৩ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ১৪ কোটি টাকা) সংগৃহীত হয়েছে।
বন্ডি বিচের সেই হামলায় ১৫ নিহত হন, যাদের সবাই ইহুদি ধর্মাবলম্বী। হামলাকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাজিদ আকরাম এবং তার ছেলে নাভিদ আকরাম। পুলিশের গুলিতে সাজিদ ঘটনাস্থলে মারা যান। আর গুলিবিদ্ধ হয়ে নাভিদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ হামলা তথাকথিত ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ায় বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
