শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

ভ্যানচালকের ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে

ভ্যানচালকের ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে

ভ্যানচালকের ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে

অভাব আর সংগ্রামের মাঝেও স্বপ্ন দেখার সাহস হারাননি ভ্যানচালক সুরুজ আলী। তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ত্যাগের ফল হিসেবে ছোট ছেলে সানাউল্লাহ ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস–বিডিএস ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা উত্তর পাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। স্ত্রী অফুজা খাতুন, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবার তার। পৈতৃক ভিটেমাটি ও একটি ভ্যানই ছিল পরিবারের একমাত্র সম্বল।

অভাবের কারণে বড় ছেলে ও মেয়ের পড়াশোনা কলেজের গণ্ডির পর থেমে যায়। তবে বড় সন্তানদের পরামর্শে ছোট ছেলেকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখেন সুরুজ আলী। সীমিত আয়ে সংসার চালাতে গিয়ে একপর্যায়ে স্ত্রীকে গার্মেন্টসে চাকরি নিতে হয়।

সানাউল্লাহ হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ময়মনসিংহের সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। শিক্ষকরা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। মেধাবী হওয়ায় স্কুল থেকে তাকে বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

সানাউল্লাহ বলেন, “এই সাফল্যের জন্য মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। বাবার অনুপ্রেরণাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। দারিদ্র্য কখনো স্বপ্ন পূরণের বাধা হতে পারে না।”

তার মা অফুজা খাতুন বলেন, “অনেকে নিরুৎসাহিত করেছিল, কিন্তু আমরা বিশ্বাস হারাইনি।”

সুরুজ আলী বলেন, “ছেলের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটাই ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এখন আমি সুখী, তবে চিকিৎসাশিক্ষা ব্যয়বহুল—সহায়তা পেলে উপকার হতো।”