বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন জীবনমুখী গানের কিংবদন্তি গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী। সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে অনেকটাই সুস্থ জনপ্রিয় এ সংগীতশিল্পী। গায়কের সুস্থতার খবরে ভক্তরা যখন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন, ঠিক কখনই অভিমানের সুর ধরা দিল নচিকেতার কণ্ঠে!
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন নচিকেতা, যেখানে তিনি নিজের জীবনের বারবার মৃত্যুকে উপলব্ধি করার বর্ণনা দিয়েছেন। ভিডিওটির শিরোনামে লিখেছেন ‘মৃত্যু মস্ত ফাঁকি’। হাসপাতালে থাকাকালীন গত ১০ ডিসেম্বর লেখাটি লিখেছেন তিনি, যা সম্পূর্ণ নিজের জীবনের উপলব্ধি থেকেই লিখেছেন নচিকেতা।
নচিকেতা উল্লেখ করেন, মৃত্যুর মুখ থেকে বারবার ফিরতে মন্দ লাগছে না। কিন্তু এই প্রথমবার নয়, মাত্র ১৫ বছর বয়সে বাইক থেকে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত লেগে কোমায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। ২০ বছর বয়সে শুধুমাত্র ভাগ্যের কারণে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন নচিকেতা। শেষ মুহূর্তে স্থান পরিবর্তনের কারণে পুলিশের গুলি এসে লাগে বন্ধুর বুকে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে পাতাল রেলের নির্মিত হওয়া টানেলে পানিতে ডুবতে ডুবতে বেঁচে গিয়েছিলেন নচিকেতা। এর আগে, মাত্র ৭ বছর বয়সে ক্ষুদিরামের ছবি দেখে গলায় দড়ি দিতে গিয়েছিলেন তিনি, মাত্র ৬ বছর বয়সে নকশাল আন্দোলন দেখে স্কুলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন, সেবারেও বেঁচে গিয়েছিলেন গায়ক।
এরপর ৪৭ বছর বয়সে দিল্লির হাসপাতালে সার্জারির টেবিল থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন এবং ২০২৫ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও বেঁচে যান তিনি। এ ছাড়াও অনেক দুর্ঘটনায় পড়েও তিনি বারবার মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে জিতে গিয়েছিলেন।
নচিকেতা লেখেন, আমার লেখা যদি ভালো লাগে, ভালো। নিজের কাছে রাখবেন। না হলে কমেন্ট করবেন না। আপনাদের কমেন্টের আশায় আমি বসে নেই। নিজেকে আমার বাড়ির পুরোনো তক্তপোশের মতো জরাজীর্ণ প্রমাণ করতে গিয়ে কমেন্ট করবেন না। আমাকে তো সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার আয়ুর (বয়স) চেয়ে বেশিবার মারা হয়ে গেছে। আবারও বেঁচে এলাম, হয়তো ভুল হয়ে গেছে, ক্ষমা করবেন। এবার আপনারা মৃত্যু ঘোষণা করলেই কথা দিচ্ছি মরে যাওয়ার চেষ্টা করব। অন্তত আপনাদের মান রাখতে।
