শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

মার্কিন হুমকির মুখে কলম্বিয়ার সামরিক সহায়তা চাইলেন মাদুরো

মার্কিন হুমকির মুখে কলম্বিয়ার সামরিক সহায়তা চাইলেন মাদুরো

মার্কিন হুমকির মুখে কলম্বিয়ার সামরিক সহায়তা চাইলেন মাদুরো

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার কাছে জরুরি সামরিক সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন।

আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে দৃঢ় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সম্ভাব্য বিদেশি হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় একজোট হওয়ার আহ্বান জানান।

কলম্বিয়ার জনগণ, সামাজিক আন্দোলন এবং সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মাদুরো বলেন, দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো যদি নিখুঁত ঐক্য গড়ে তুলতে পারে, তবে কোনো অপশক্তিই এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্বে হাত দেওয়ার সাহস পাবে না। তিনি বিশেষভাবে কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীকে ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতাই একমাত্র কার্যকর পথ।

এই ভাষণে মাদুরো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, ভেনিজুয়েলার তেল, ভূমি ও অন্যান্য সম্পদ চুরির যে দাবি ট্রাম্প করছেন, তা আসলে তার যুদ্ধবাজ ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। 

মাদুরোর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো ভেনিজুয়েলায় একটি পুতুল সরকার বসানো, যারা দেশের সংবিধান ও জাতীয় সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেনিজুয়েলার জনগণ এই ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেবে না।

সংকটের মাত্রা আরও বেড়েছে গত মঙ্গলবার, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে মাদুরো সরকারকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার হুমকি দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি দাবি করেন, দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসের বৃহত্তম নৌবহর দিয়ে ভেনিজুয়েলাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। 

ট্রাম্প আরও লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চুরি করা তেল ও ভূমি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত সামরিক চাপ বাড়তেই থাকবে এবং ভেনিজুয়েলাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হবে, যা তারা আগে কখনো দেখেনি।

মাদুরো এই পদক্ষেপগুলোকে ভেনিজুয়েলার শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের একটি নির্লজ্জ অজুহাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও যুদ্ধংদেহী অবস্থান দেশটিকে পুনরায় একটি কলোনিতে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। এদিকে মাদুরোর সামরিক সহায়তার আহ্বান সম্পর্কে কলম্বিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই তীব্র উত্তেজনা এবং অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি লাতিন আমেরিকার সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।