শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

জব্দকৃত রুশ সম্পদ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের আহ্বান ইইউ নেতাদের

জব্দকৃত রুশ সম্পদ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের আহ্বান ইইউ নেতাদের

জব্দকৃত রুশ সম্পদ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের আহ্বান ইইউ নেতাদের

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যয় নিশ্চিত করতে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য প্রতিশ্রুত জরুরি তহবিল বাস্তবায়নের পথ খুঁজতে বৈঠকে বসছেন ইইউ নেতারা। 

রণক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির মুখে ইউক্রেন যখন নতুন করে ভূখণ্ড হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন কিয়েভকে সামরিক সহায়তা দেওয়াকে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ’ বলে অভিহিত করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে ফন ডের লেয়েন বলেন, এক বিপজ্জনক ও দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। তার ভাষায়, আগামী কয়েক দিন ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চলতি মাসের শুরুতে দুটি আর্থিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রস্তাবগুলোর একটিতে ইইউভুক্ত দেশগুলোর যৌথ ঋণ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, আর অন্যটিতে ইউরোপে জব্দকৃত রুশ সম্পদের বিপরীতে তথাকথিত ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রাশিয়ার প্রায় ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের সম্পদ জব্দ অবস্থায় আছে, যার বড় অংশ বেলজিয়ামভিত্তিক সিকিউরিটিজ ডিপোজিটরি ‘ইউরোক্লিয়ার’-এ রাখা। 

তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে বেলজিয়াম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির আশঙ্কা, আইনি জটিলতা তৈরি হলে বা প্রকল্পটি ব্যর্থ হলে বিশাল আর্থিক দায় তাদের ওপর বর্তাতে পারে। ইতোমধ্যে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউরোক্লিয়ারের বিরুদ্ধে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ইউক্রেনকে সহায়তার কৌশল নিয়ে ইইউর প্রধান দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মতে, সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া রুশ সম্পদ ব্যবহার করলে তা শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। 

তিনি বেলজিয়ামের অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইউক্রেনের জন্য যৌথ ঋণ গ্রহণের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিপরীতে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ রাশিয়ার ৯০ বিলিয়ন ইউরো সমমূল্যের সম্পদ সরাসরি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষায় ব্যবহারের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে চ্যান্সেলর মার্জ জানান, এই চুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ। তার মতে, এই অর্থের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য অন্তত আরও দুই বছরের সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি একটি কঠোর রাজনৈতিক বার্তাও যাবে।

ইইউ কর্মকর্তাদের আলোচনাধীন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইউরোক্লিয়ারের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে ইউক্রেনকে ৯০ বিলিয়ন ইউরো দেওয়া হবে। মস্কো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করলেই কেবল এই ঋণ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের দাবি, এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে ক্রেমলিন একে সরাসরি ‘চুরি’ বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হাঙ্গেরি সরকার ইউক্রেনকে ঋণ দিতে ইইউর সাধারণ বাজেট ব্যবহারের বিরুদ্ধে ভেটো দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যেহেতু ইইউ বাজেট ব্যবহারে সব সদস্য দেশের সম্মতি প্রয়োজন, তাই হাঙ্গেরির বিরোধিতার কারণে ‘ক্ষতিপূরণ ঋণ’ ব্যবস্থাটিই এখন তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কারণ এই প্রক্রিয়া কার্যকর করতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য দেশের সমর্থনই যথেষ্ট।

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে তাদের আওতায় থাকা ২১০ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের রুশ সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরুদ্ধ রেখেছে। ফলে প্রতি ছয় মাস অন্তর হাঙ্গেরি বা অন্য কোনো রুশ-ঘনিষ্ঠ দেশের ভেটোর সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। 

বেলজিয়াম প্রস্তাব দিয়েছে, এই জরুরি ক্ষমতার আওতায় ইইউ বাজেটের বিপরীতে সরাসরি ইউক্রেনকে ঋণ দেওয়া যেতে পারে, যাতে ভেটো এড়ানো সম্ভব হয়। তবে অনেক জ্যেষ্ঠ ইইউ কূটনীতিক এই পদ্ধতিকে আইনি কাঠামোর গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন।

সব মিলিয়ে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা তহবিল নিশ্চিত করতে রাশিয়ার জব্দকৃত সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিই এখন ব্রাসেলস সম্মেলনের কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।