শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৩, ২০২৬
 শিরোনাম
রাশিয়ার শীর্ষ জেনারেলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ কন্যা সন্তানের পিতা হলেন ব্যাচেলার পয়েন্ট এর কাবিলা ৷ চবি মেধাবী শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরাদেহ উদ্ধার,শালিখায় শেষকৃত্য সম্পন্ন সন্ত্রাসীদের বিচার ও শাস্তির বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শ্রীমঙ্গলে : আসিফ মাহমুদ চট্টগ্রামে গভীর নলকূপের গর্তে পড়ে গেছে শিশু নির্বাচনের দায়িত্বে কোনো আওয়ামী লীগের দোসর নেই, সবাই সৎ অফিসার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন, ভোট নিয়ে অন্য দেশের মতামত দেওয়ার সুযোগ নেই: রিজওয়ানা বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে চলচিত্র নির্মান করতে চান রায়হান রাফি। শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো রাশিয়া

যে কারণে ৬ মাস চুলে শ্যাম্পু দেননি তুষি

যে কারণে ৬ মাস চুলে শ্যাম্পু দেননি তুষি

যে কারণে ৬ মাস চুলে শ্যাম্পু দেননি তুষি


‘হাওয়া’ সিনেমায় গুলতি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন নাজিফা তুষি। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তিনি হাজির হচ্ছেন আরও কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে। সিনেমার নাম ‘রইদ’। এই সিনেমায় নিজের চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে যে অমানবিক পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী, তা শুনলে চমকে উঠবেন যে কেউ।

তুষি জানালেন, চরিত্রের প্রয়োজনে টানা ৬ মাস চুলে শ্যাম্পু, সাবান বা কোনো প্রসাধন ব্যবহার করেননি। এমনকি মেকআপ ছাড়া পুড়ে কালো হওয়ার জন্য গায়ে সরিষার তেল মেখে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকেছেন রোদে!

৬ মাস সাবান-শ্যাম্পু ছাড়া নিজের এই রূপান্তর প্রসঙ্গে তুষি বলেন, “হাওয়ার চেয়ে ‘রইদ’ আমার জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য আমি টানা ছয় মাস চুলে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার বা গায়ে সাবান ব্যবহার করিনি। শুধু পানি দিয়ে গোসল করতাম। কারণ সাবান দিলে স্কিন পরিষ্কার হয়ে যায়, কিন্তু আমি চাচ্ছিলাম আমার ত্বকের পোরসগুলো দেখা যাক, মুখে মেছতা বা দাগ ফুটে উঠুক।”

চামড়া পোড়াতে সরিষার তেল মেকআপ দিয়ে কালো না হয়ে প্রাকৃতিকভাবে রোদে পোড়া ত্বক চেয়েছিলেন তুষি। তিনি বলেন, “আমি গায়ে সরিষার তেল মেখে রোদে বসে থাকতাম। কারণ তেল মেখে রোদে গেলে দ্রুত বার্ন হয়। আমি চেয়েছিলাম চামড়া পুড়ে কয়লা হয়ে যাক। মেকআপ দিয়ে কালো করলে বৃষ্টি বা ঘামে তা ধুয়ে আসল রং বেরিয়ে আসার ভয় ছিল। তাই আমি প্রাকৃতিকভাবেই ওই অঞ্চলের মানুষের মতো হতে চেয়েছিলাম, যাতে আমাকে শহুরে মনে না হয়।”

পাথরের চুন খেয়ে মুখ পোড়ালেন চরিত্রের প্রয়োজনে কেবল গায়ের রং নয়, দাঁত ও মুখের ভেতরটাও পরিবর্তন করেছেন তিনি। তুষি বলেন, “চরিত্রটির দাঁতে এক ধরনের টেক্সচার দরকার ছিল। এজন্য আমি পান খেতাম। কিন্তু সাধারণ পানের চুনে কাজ হচ্ছিল না বলে আমি পাথরের চুন খাওয়া শুরু করি, যা ওই এলাকার মানুষ খায়। এতে আমার মুখ ও জিহ্বা পুড়ে যেত, কথা ভারী হয়ে আসত। কিন্তু চরিত্রের জন্য সেই কষ্টটুকুও করেছি।”

নামহীন চরিত্র ও লেবারের কাজ তুষি জানান, এই সিনেমায় তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন যার কোনো নাম নেই। চরিত্রটি ধারণ করতে তিনি শুটিং স্পটে লেবারদের সঙ্গে মাটি কেটেছেন, টিলায় উঠেছেন এবং গাছ লাগিয়েছেন। এমনকি চরিত্রের পোশাকের জন্য ‘টুকের বাজার’ থেকে মানুষের ব্যবহৃত পুরোনো কাপড় কিনে পরেছেন।

সহশিল্পী হিসেবে এই সিনেমায় তিনি পেয়েছেন অভিনেতা মোস্তাফিজুর নূর ইমরানকে। তার প্রশংসায় তুষি বলেন, “নূর ভাইয়ের (মোস্তাফিজুর নূর ইমরান) সঙ্গে এটাই আমার প্রথম কাজ। তিনি দুর্দান্ত একজন অভিনেতা। আমরা দুজনেই চরিত্রের প্রয়োজনে এক অদ্ভুত জীবনযাপন করেছি।”