নাইজেরিয়ার প্লাটো রাজ্যের আতোসো গ্রামে একটি খনি স্থাপনায় বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
সশস্ত্র হামলাকারীরা কেবল হত্যাযজ্ঞই চালায়নি, বরং ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেরোম ইয়ুথ মোল্ডার্স-অ্যাসোসিয়েশন (বিওয়াইএম) এর প্রধান ডালিওপ সলোমন মাওয়ান্তিরি এই হামলার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আক্রমণকারীরা মঙ্গলবার রাতের অন্ধকারে খনি এলাকায় হানা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের সশস্ত্র ‘ফুলানি মিলিশিয়া’ হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে চলা জাতিগত ও ধর্মীয় দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় এই নৃশংসতা চালানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খনি স্থাপনাটি মূলত শ্রমিকদের কর্মস্থল হলেও সেখানে কোনো পূর্ব সতর্কবার্তা ছাড়াই বন্দুকধারীরা গুলি চালাতে শুরু করে।
নাইজেরিয়ার পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র আলফ্রেড আলাবো এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঘটনার বিষয়ে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই সর্বশেষ হামলার ঘটনা প্লাটো রাজ্যের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতাকে আবারও বড় করে সামনে নিয়ে এসেছে।
ওই অঞ্চলে শান্তি পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে সহিংসতার মাত্রা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবাধ বিচরণ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার এই প্রবণতা স্থানীয় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
