সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

যেভাবে জন্ম নিল ডিজিটাল ক্যামেরা

যেভাবে জন্ম নিল ডিজিটাল ক্যামেরা

যেভাবে জন্ম নিল ডিজিটাল ক্যামেরা

 

১৯৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্টম্যান কোডাক প্রতিষ্ঠানের তরুণ প্রকৌশলী স্টিভ স্যাসন তৈরি করেছিলেন বিশ্বের প্রথম হাতে ধরা ডিজিটাল ক্যামেরা, আর সেই মুহূর্ত থেকেই বদলে যায় ফটোগ্রাফির ইতিহাস। 

তখন কোডাক ছিল বিশ্বের নামকরা ফিল্ম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, মানুষ ফিল্ম কিনত, কোডাক ক্যামেরায় ছবি তুলত, কোডাক কেমিক্যালে ডেভেলপ করত। এই পুরো চেইনের মাঝেই জন্ম নেয় ডিজিটাল ক্যামেরার প্রথম বীজ।

স্টিভ স্যাসন মাত্র ২৩ বছর বয়সে কোডাকে যোগ দেন। তিনি ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, ফলে ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট প্রক্রিয়া তাঁকে আকর্ষণ করেনি। তিনি ভাবলেন, ছবি যদি সরাসরি ইলেকট্রনিক্সে ধারণ করা যায়! এই স্বপ্ন থেকেই শুরু হয় ডিজিটাল ক্যামেরা তৈরির গবেষণা।

সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের বেল ল্যাবসে তৈরি হয়েছিল সিসিডি নামের একটি নতুন সার্কিট। আলো পড়লেই সার্কিটে তৈরি হয় বৈদ্যুতিক সংকেত। স্যাসনের মাথায় আসে, এটাকে ক্যামেরার সেন্সর হিসেবেই ব্যবহার করা যায়।

তবে বড় বাধা ছিল অর্থের অভাব। কেউ তাঁকে ক্যামেরা বানানোর নির্দেশও দেয়নি। তাই কোম্পানির ব্যবহার না করা যন্ত্রাংশ থেকে নিজেই তুলে নেন লেন্স, সার্কিট ও প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্র। ক্যামেরাটি তৈরি হয় ক্যাসেট টেপে ছবি ধারণ করার ব্যবস্থায়। ওজন ছিল ৮ পাউন্ডের বেশি, দেখতে যেন একটি টোস্টার বক্স।

১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর মাসে স্যাসন প্রথম ডিজিটাল ছবি তোলেন সহকর্মী জয় মার্শালকে বসিয়ে। ছবিটি তুলতে লাগে ১/২০ সেকেন্ড, আর ডেটা টেপে সেভ হতে ২৩ সেকেন্ড। প্রথম ছবিতে মুখের অবয়ব বিকৃত হয়ে গেলেও তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বুঝে যান—এটাই ভবিষ্যৎ।

পরীক্ষা সফল হওয়ার পর স্যাসন কডাকের বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তাদের সামনে ক্যামেরা দেখাতে শুরু করেন। কেউ উচ্ছ্বসিত, কেউ সন্দিহান। অনেকে প্রশ্ন করেন, মানুষ ছবি তুলবে কেন ফিল্ম ছাড়া? কোথায় দেখবে? ছবি ছাপবে কীভাবে?

এরপর ১৯৭৮ সালে কোডাক প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরার পেটেন্ট পায়। এই উদ্ভাবনকে ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে বদলে যায় প্রযুক্তির বিশ্ব। মোবাইল ক্যামেরা, ডিজিটাল ডিভাইস—সবকিছুর মূলে রয়েছে সেই প্রথম আবিষ্কারের গল্প।

স্টিভ স্যাসন কোডাকেই থেকে যান দীর্ঘ সময়। ২০০৯ সালে তিনি পান যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন। আজও তাঁর আবিষ্কৃত সেই ‘টোস্টার আকৃতির’ প্রথম ডিজিটাল ক্যামেরাটি রাখা আছে জর্জ ইস্টম্যান মিউজিয়ামে।