অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বিখ্যাত বন্ডি বিচে গত ১৪ ডিসেম্বর হানুকা উৎসব চলাকালীন ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুসারে, দুই বন্দুকধারী নাভিদ আকরাম (২৪) এবং তার বাবা সাজিদ আকরাম মাসের পর মাস ধরে “সূক্ষ্মভাবে” এই হামলার পরিকল্পনা করেছেন। খবর বিবিসির।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে তাদের ফোনে পাওয়া ভিডিওতে ইসলামিক স্টেট (আইএস) পতাকার সামনে দাঁড়িয়ে তারা “জায়োনিস্টদের” নিন্দা করেছেন এবং আইএস-অনুপ্রাণিত মতাদর্শ প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের গ্রামাঞ্চলে তারা শটগান এবং ট্যাকটিক্যাল মুভমেন্ট নিয়ে অগ্নিশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
হামলার দুই দিন আগে অর্থাৎ ১২ ডিসেম্বর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে তারা বন্ডি বিচের কাছে রেকি করছেন। হামলার দিন সকালে তারা ভাড়া বাড়ি থেকে দুটি সিঙ্গল-ব্যারেল শটগান, একটি বেরেটা রাইফেল, চারটি হাতে তৈরি বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) – যার মধ্যে পাইপ বোমা এবং একটি “টেনিস বল বোমা” – এবং আইএস পতাকা নিয়ে বের হয়। গাড়ির জানালায় পতাকা লাগিয়ে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিড়ের দিকে বোমা ছুড়ে মারেন, যদিও তার বিস্ফোরিত হয়নি এবং তারপর গুলি চালান।
ঘটনাস্থলে সাজিদ আকরাম পুলিশের গুলিতে নিহত হন। গুরুতর আহত নাভিদকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৫৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টি হত্যা এবং একটি সন্ত্রাসী কাজের অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নাভিদ ২০১৯ সালে সিডনিভিত্তিক একটি আইএস সেলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তদন্তাধীন ছিলেন। কিন্তু তখন কোনো চলমান হুমকি পাওয়া যায়নি। হামলার এক মাস আগে তারা ফিলিপাইনে ভ্রমণ করেছেন, যা নিয়ে তদন্ত চলছে। সাজিদের কাছে আইনি অস্ত্র লাইসেন্স ছিল।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও চরমপন্থা রোধে নতুন আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেশজুড়ে শোক পালন চলছে এবং ইহুদি নেতারা রয়্যাল কমিশনের (সর্বোচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি) দাবি জানিয়েছেন।
এই হামলা অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদিবিরোধী ঘটনাবলির প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
